অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তালিবান সরকারকে অন্তর্ভুক্ত করার পাকিস্তানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান 


সার্ক লোগো

পাঁচ বছর হয়ে গেল সার্কের শীর্ষ বৈঠক হচ্ছে না। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হতেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। আগামী শনিবার সার্ক পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে আফগানিস্তানের বর্তমান তালিবান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

চলতি বছর এ বৈঠকের আয়োজক ছিল নেপাল। বেশির ভাগ দেশ চেয়েছিল এবারের বৈঠকে আফগানিস্তানের আসনটি খালি থাকুক। কিন্তু পাকিস্তান এতে রাজি নয়। তাদের কথা, এবারের বৈঠকে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করুক বর্তমান তালিবান সরকার। এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে অন্য কোনো দেশই সম্মতি দেয়নি।

পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছাড়া বর্তমান তালিবান সরকারের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের তেমন কোনো সুসম্পর্ক নেই। স্বীকৃতিও দেননি কেউ। আফগানিস্তান প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত সপ্তাহেই সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, তালিবান সরকারে কোনো মহিলা প্রতিনিধি নেই। তারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিতও নয়। তাই তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার আগে সব দেশেরই ভালো করে চিন্তাভাবনা করা উচিত।

এছাড়া ভারত বলেছে, তালিবানের নতুন মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা এখনও জাতিসংঘ এবং আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থার কালো তালিকাভুক্ত। এই পটভূমিতে নিউ ইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বাতিল করা হয়।

আয়োজক নেপাল পাকিস্তানের প্রস্তাবে সায় দেয়নি। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী গোলাম ইসাক যাইকেও পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে, সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তাদের যোগ দেয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যেই জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নেয়ার কথা বলে আবেদন করেছে তালিবান সরকার। তালিবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জাতিসংঘের মহাসচিব বরাবর এক চিঠিতে আফগান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য তুলে ধরতে সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG