অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এক দশক পরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি নাই 


আততায়ির হাতে ২০১২ সালে খুন হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি- ফটো - মাছরাঙা টেলিভিশন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা কাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয় নাই।

সোমবার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ন বা র‍্যাব চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা তা দাখিল করে নাই। র‍্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৪ শে নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন । এ নিয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৮২ বার পেছানো হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। চারদিনে কোনও রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলার তদন্ত ভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ই এপ্রিল র‌্যাব তদন্ত ভার গ্রহণ করে। এর পর র‌্যাবও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে নাই এবং এই হত্যাকাণ্ডের কোনও রহস্যও উদ্ঘাটিত হয় নাই।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয় মামলাটির মোট পাঁচটি তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। প্রথমে ২০১৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর, এরপর ২০১৫ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, ওই বছরের ৭ই জুন, ২০১৬ সালের ২রা অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১শে মার্চ তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করে ঘটনাস্থলে দুইজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। ওই দুই অজ্ঞাত আসামিকে শনাক্ত করতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর র‍্যাব এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে দুই জন জামিনে ও বাকি ছয় জন কারাগারে আছেন।

সাগার-রুনি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্রিমিনলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মাদ জিয়াউর রহমানের কাছে ভয়েস অফ অ্যামেরিকার পক্ষে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাধীন ভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা থাকায় গুরুত্ব পূর্ণ মামলার তদন্ত স্থবির হয়ে পড়ে। তিনি বলেন এ সকল ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগ যদি তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করে তবে সাগর-রুনির হত্যা ও তনু হত্যার মত আরও যে সকল চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দীর্ঘ দিন ঝুলে রয়েছে সেগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচার পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

XS
SM
MD
LG