অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বজ্রপাতে ১৬ জন বরযাত্রীর মৃত্যু


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত যুবককে এ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। ছবিটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের বাইরে থেকে তুলেছেন সাংবাদিক তারেক রহমান।

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ বুধবার বেলা ১২ টার দিকে নদীপথে নৌকা যোগে একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন ৫৫ জন বরযাত্রী। পথের মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় দক্ষিণ চরপাকা এলাকার একটি খেয়াঘাটে নেমে টিনের চালার নিচে আশ্রায় নেয়া সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
শিবগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী তারেক রহমান ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানান, সুন্দরপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রাম থেকে পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকা গ্রামের একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন তারা। নৌকাযোগে নদী পার হওয়ার সময় বৃষ্টি শুরু হয়। যাত্রীরা আশ্রয় নেয়ার জন্য দক্ষিণ চরপাকা এলাকার একটি খেয়াঘাটে টিনের চালার নিচে যাচ্ছিলেন। এমন সময় আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ১৬ জন নিহত হন । আহত হন আরও অন্তত ৬ জন যাত্রী। তিনি জানান, নিহতরা সবাই সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানান, বজ্রপাতে নিহত হওয়ার পর লাশগুলো তাদের স্বজনরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছে। ফলে মৃত্যের সঠিক হিসেব এই মূহুর্তে দেয়া যাচ্ছে না। তার কাছে বেলা তিনটা পর্যন্ত ১৬ জনের তথ্য ছিলো। তিনি আরো জানান, পুলিশ নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
এদিকে জলবায়ু নিয়ে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানান, চলতি বছরের জুনের ৭ তারিখ পর্যন্ত গোটা দেশে ১৭৭ জন বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুই বছরে গোটা বাংলাদেশে ৩৯৮ জন বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। তিনি জানান, তাদের সংগঠনের গবেষণা সেল প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক, স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ টেলিভিশনের তথ্য সংগ্রহ করে বজ্রপাতের নিহতদের পরিসংখ্যান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব হোসাইন ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানান, বর্তমানে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল হয়ে মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসময় বজ্রপাতের মেঘ বয়ে আনছে এসব মৌসুমী বায়ু। ফলে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, মেঘ বাংলাদেশে প্রবেশ করার সাথে সাথেই আমরা জেনে যাই এবং মেঘের গতিবিধি সম্পর্কে আমাদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেই। কিন্তু সর্বসাধারণকে জানানোর জন্য আমাদের হাতে কোন প্রযুক্তি নেই। ফলে মেঘের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও মানুষকে সতর্ক করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, প্রচারের বিষয়টি নিয়ে একটি ফোন কোম্পানির সাথে তাদের কথা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগাম সতর্ক বার্তায় অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা পাবে।

XS
SM
MD
LG