অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শিক্ষা থেকে বঞ্চিত লেবাননে সিরিয়ান শরনার্থীদের ছেলেমেয়েরা


জাতিসংঘ বলেছে লেবাননে আগত সিরিয়ান শরনার্থীদের এক তৃতীয়াংশই স্কুলে যাওয়ার মতো বয়সী ছেলেমেয়ে। এদের বেশিরভাগই লেবাননে এক বছরেরও ওপরে অবস্থান করছে। বৈরুত থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট করেন জ্যামি দেতমার। পরিবেশন করছেন সেলিম হোসেন:

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:13 0:00
সরাসরি লিংক

এগারো বছর বয়সী মারাহ লেবাননে বাস করছে দেড় বছরের মতো হবে। উপকুলীয় শহর ত্রিপলীর একটি শরনার্থী কেন্দ্রে বাবা মা ভাই বোনদের সঙ্গে থাকে সে। সিরিয়ায় তাদের ফার্ম হাউজটিতে রকেট হামলার পর তারা চলে আসে। পুরোনো নির্মাণ উপাদান দিয়ে তৈরী ভাঙ্গাচোরা ছোট্ট দুইরুমের বাড়ীতে কষ্ট করে বাস করলেও মারাহ তার ভাইবোনদের চেয়ে ভাগবান: কারন সে স্কুলে যাচ্ছে।

তবে আরবী ভিত্তিক সিরিয়ান পাঠ্যসূচীতে অভ্যস্থ ছিল সে, এখন ফরাসী ভিত্তিক লেবাননের পাঠ্যসূচীর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো তার জন্য কষ্টকর হচ্ছে। স্কুলে সে লেবানীজ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করছে। অনেক সমস্যা হয়, মাঝে মধ্যে তাকে তারা শরনার্থী বলে ঠাট্টা করে।

নার্স হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় মারাহ। যে শরনার্থী কেন্দ্রে থাকে সেখানে আরো ২০০টি পরিবার রয়েছেন। তাদের মধ্যেই সেই একমাত্র বালিকা যে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

এই শরনার্থী কেন্দ্রের নানা সমস্যা যেমন খাদ্য,স্বাস্থ্য সেবা, এসব বিষয় গনমাধ্যমে আসে, সকলের গোচরীভূত হয়। কিন্তু শিক্ষার সুযোগ সুবিধা নিয়ে কেউ তেমন কথা বলেন না। এ প্রসঙ্গে লেবাননে জাতিসংঘের হাইকমিশনার নেনেত কেলি বলেন:

“শিশুদের অবস্থা ভয়ানক খারাপ। ৩ লক্ষ সিরিয়ান স্কুল বয়সী শিশুকিশোর রয়েছে, আর একই রকম সংখ্যক লেবানীজ শিশু স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় বলেছে তারা ১ লক্ষ শিশুকে ভর্তি করাতে সক্ষম; এতে আরো ২ লক্ষ বাকী থাকে”।

জাতিসংঘ তার সহযোগি সগঠনের মাধ্যমে শিশু কিশোরদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে কাজ করছে। তবে কেলি বলেন এই শিক্ষা কার্যক্রম তাদের জন্য কতোটা সহায়ক হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে”

“যাদের শিক্ষা প্রয়োজন তাদের জন্য অক্ষরজ্ঞান দেয়ার কার্যক্রম যথেষ্ঠ নয়। আমরা সব সহযোগিদের সঙ্গে আলোচনা করছি, সিরিয়ার শরনার্থী শিক্ষকদেরকে এবং স্বেচ্ছাসেবীরদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে”।

জাতিসংঘ কর্মীরা জানান অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের অর্থায়ন নিয়েও সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া সিরিয়ার শরনার্থী শিশু কিশোররা তাদের পরিবারের সঙ্গে বিধ্ধস্থ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় তাদেরকে সংগঠিত করে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা একটা বড় কাজ বলেই সকলে মনে করছেন।
XS
SM
MD
LG