অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফেতুল্লা গুলেনের বেশ কিছু অনুসারি বাংলাদেশে কাজ করছেন: ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত


আজ তুরস্ক সে দেশ ব্যর্থ সামরিক অভূত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন করছে। আজ এই উপলক্ষে একদিকে যেমন জাতীয় একতা মিছিল বের করা হয়, তেমনি সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয় এবং সেই সঙ্গে প্রায় সাত হাজার চার শ জন সরকারী কর্মচারিকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগেও প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েব এরদোয়ন এক লক্ষ্ সরকারী কর্মচারিকে বরখাস্ত করেছেন যাদেরকে তিনি ঐ ব্যর্থ অভুত্থানের সমর্থক বলে অভিহিত করেছেন। সরকার আরও পঞ্চাশ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা তুরস্কে রাজনৈতিক বিভেদ বৃদ্ধি করেছে এবং সরকার বিরোধীরা বলছেন যে এগুলো হচ্ছে এরদোয়ান বিরোধীদের কন্ঠরুদ্ধ করার কৌশল।

বিরোধীদের অভূত্থান প্রচেষ্টা উপলক্ষে ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত বসপরাস সেতুর ওপর এরদোয়ান আজ তাঁর কথায় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের উদ্বোধন করেন এবং ঐ সেতুটি আজ নতুন নাম দেওয়া হয়, শহীদ সেতু। সেখানেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অসামরিক লোকজনদের সংঘাত হয়েছিল অভুত্থানের সময়ে।

এরদোয়ান এর পর আংকারায় ফিরে এসে সংসদের জরুরি অধিবেশনে যোগ দেন। ইস্তাম্বুল ও আংকারায় হাজার হাজার লোক সপ্তাহান্তের এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন।

তুরস্কে ১৫ই জুলাইকে গণতন্ত্র ও ঐক্য দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সেখানে জাতীয় ছুটির দিন। তুরস্কে সরকার বিরোধীরা বলছে যে এরদোয়ানের সরকার কর্তৃত্ববাদী সরকার হয়ে উঠছে তবে তুর্কি নেতা বলছেন যে ক্ষমতাসীন সরকারকে নিরাপত্তা হুমকি থেকে বাঁচানোর জন্য কিছু অধিকার খর্ব করা দরকার।

এরদোয়ান দাবি করছেন যে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতল্লাহ গুলেন ঐ অভূত্থানের নের্তৃত্ব দিয়েছিলেন তবে গুলেন এর সঙ্গে কোন রকম সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। এই অভূত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে গুলেন বলেন যে গত বছরে নিরপরাধ নাগরিকদের প্রতি যে রকম আচরণ করা হয়েছে তার ফলে তুরস্ককে সেই সব দেশের গোষ্ঠিভুক্ত করা হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে যাদের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মৌলিক স্বাধীনতার রেকর্ড সবচাইতে খারাপ।

গতকাল শুক্রবার তুরস্কে সাত হাজারের ও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা সরকারি কর্মকর্তা এবং শিক্ষা জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

তুরস্কের পলাতক রাজনীতিবিদ ফেতুল্লা গুলেনের বেশ কিছু অনুসারি তুর্কি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেভরিম অজতুর্ক। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৫ই জুলাই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইফ এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের ১৫০টি দেশে ফেতুল্লা টেরোরিস্ট ওর্গেনাইজেশন (ফেটো)’র কর্মী এবং সহযোগিরা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে যারা রয়েছে তাদের বিষয়ে আমরা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। ঢাকার তার্কিশ হোপ স্কুল পরিচালনার সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত রয়েছে। অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকে পালিয়েও গেছে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-তুরস্ক চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গেও ফেটো’র সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, কথিত ওই চেম্বারকে তারা অনুমোদন দেননি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে মতিউর রহমান চৌধুরীর পাঠানো রিপোর্ট।

XS
SM
MD
LG