অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত- ডনাল্ড ট্রাম্প


৭২তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে মঙ্গলবার দেয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয়তাবাদী চেতনা “আমেরিকা ফার্ষ্ট” নীতি তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার সংকট ও অপরাপর সমস্যা নিরসনে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। সেলিম হোসেন জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষনের সবচেয়ে জোরালো অংশটি ছিল উত্তর কোরিয়াকে দেয়া হুমকী। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন উত্তর কোরিয়া যদি পারমানবিক কর্মসূচী ও উস্কানী অব্যাহত রাখে তবে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচী ও একের পর এক ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও বিশ্ব নিরাপত্তা বিনষ্ট করছে। তিনি বলেন উত্তর কোরিয়া যদি পারমানবিক কর্মসূচী ও উস্কানী অব্যাহত রাখে তবে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত”।

তিনি জাতিসংঘ এবং এর সদস্যভূক্ত দেশগুলোকে উত্তর কোরিয়ার উস্কানী বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

ভাষনের প্রথমেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর কর্মকান্ডের সাফল্য তুলে ধরেন। হারিকন আরমার আঘাতে নিহতদের উদ্দেশ্যে শোক জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।

তিনি বলেন আমেরিকানরা এখন খুবই শক্তিশালি। যুক্তরাষ্ট্র নভেম্বর ৮ এর নির্বাচনের পর থেকে সফলভাবে কাজ করছে। স্টক মার্কেটের উন্নতি হয়েছে, চাকুরীর সংস্থান হয়েছে, কোম্পানীগুলোকতে চাকরীর সুযোগ হচ্ছে নতুন করে। আমরা ৭গগ কোটি ডলার সেনা ও প্রতরিক্তক্ষা খাতে খরচ করবো। আমাদের সেনা বাহিনী বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালি সেনাবাহিনী হবে শিঘ্রই।

আমরা এমন একটি সময় আছি বসবাস করছি যখন বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে অনেক। এতে নানা সমস্যার সমাধান যেমন সহজ হয়েছে তেমনি সন্ত্রাসীদের বিস্তারও বিশ্বব্যাপী বেশী হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা শুধু বিশ্বের মানুষের জন্যই নয় তাদের নিজেদের জন্যও ক্ষতিকর। আন্তুজরআতিক সন্ত্রাস, অভীবাসন, সবই এখন সংকটাপন্ন। বিশ্বের সংকটময় অবস্থা নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তিনি বলেন ইরানী সরকার স্বেরাচারী সরকার। দেশটির উস্কানীতে বিভিন্ন দেশে সংঘাত চলছে। তেল রপ্তানীর টাকা তারা হেজ্বুল্লাহ ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে শান্তিকামী মানুষদের মারছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছে তা একপেশে। ঐ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বাভাবিক। সমগ্র বিশ্বের উচিৎ ইরান সরকারের ধংসের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা। তিনি বলেন বেশ কিছু আমেরিকানদেরকে অবৈধভাবে ইরানী জেলে রাখা হয়েছে। তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার জন্য সকলের এগিয়ে আসা দরকার। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযান চলবে।

সৌদী আরবের সফল সফরেরর কথা উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায়।

সিরিয়া প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন বাশার আল আসাদের স্বৈরাচারী মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “নিজের দেশের মানুষের ওপর সে কেমিকেল অস্ত্র মেরেছে। এজন্য যুক্তকরাষ্ট্র সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করেছে। জাতিসংঘ সংস্থা সেখানে মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রশংসা কেরান তিনি।

আইসিসসহ জঙ্গীবাদ নিরসনে সকলের সহযোগিতা কামনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আহবান জানান সংঘাত বিক্ষুব্ধ অঞ্চলগুলোর মানুষের মানবিক সহায়তায়। শরনার্থীদের সহায়তারও আহবান জানান এবং তাদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কি করা যায় তার জন্য সহযোগিতার আহবান জানান।

ভেনিজুয়েলার গনতন্ত্র উন্নয়নে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি। নিকোলাস মাদুরকে সতর্ক করে বলেন সেখানকার মানুষের ওপর আরো কোনো নির্যাতন হলে ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে। দেশটিতে পূর্ন গনতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দেয়ার দাবী জানান তিনি।

সমাজতন্ত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সোভিয়েত কিউবা ভেনিজুয়েলা সর্বত্রই সমাজন্ত্র মানুষের উপকারের পরিবর্তে অপকার করছে”।

তিনি তাঁর বক্তব্য জাতিসংঘের সংস্কারের আভাস দিয়ে বলেন স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসের মদদ দাতারা কিভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে থাকে।

সবশেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আশা হচ্ছে এমন একটি শব্দ যা স্বাধীন বিশ্বে বন্ধুত্ব অংশীদারীত্ব আর মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ বিশ্বের রাষ্ট্রসমুহকে ঐক্যবদ্ধ রাখবে”।

ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন বিশ্বের কাছে আমাদের বার্তা হচ্ছে আমরা যুদ্ধ করবো একসঙ্গে বিসর্জন দেবো একসঙ্গে; শান্তির জন্য স্বাধীনতার জন্য ন্যায় বিচারের জন্য পরিবারের জন্য মানবতার জন্য এবং শ্রষ্ঠার জন্য।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:24 0:00

XS
SM
MD
LG