অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহের জন্য নেটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান


রাশিয়ান সাঁজোয়া যানবাহনের একটি কনভয় ক্রিমিয়ার একটি মহাসড়ক বরাবর চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২৷

ইউক্রেনকে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করতে সহায়তা করার জন্য ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করতে দীর্ঘদিন ধরে জার্মানির অস্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য দেশটি এখন ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রয়েছে।

ব্রিটেন সোমবার জার্মান আকাশসীমা এড়িয়ে বিমানে করে ইউক্রেনে স্বল্প-পাল্লার ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র পাঠিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস আইন প্রণেতাদের আভাস দিয়েছেন, ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়ার "ক্রমবর্ধমান হুমকিমূলক আচরণ" এর আলোকে সম্ভবত আরও সামরিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হবে। ইউক্রেন সীমান্তে ক্রেমলিন ১ লক্ষেরও বেশি সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে।

ওয়ালেস বলেন, "উদ্বেগের একটি বৈধ এবং বাস্তব কারণ" রয়েছে যে, রাশিয়া আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। যদিও রুশ কর্মকর্তারা তাদের এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন তবু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বুধবার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হুমকির অবস্থা নজিরবিহীন”।

সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ ইস্যুতে ইউক্রেন জার্মানির প্রতি ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ গত মাসে অভিযোগ করেন, বার্লিন নেটো সমর্থিত প্রকিউরমেন্ট এজেন্সি থেকে অ্যান্টি-ড্রোন রাইফেল এবং অ্যান্টি-স্নাইপার সিস্টেম কেনার বিষয়ে ভেটো দিয়েছে, এই পদক্ষেপটিকে "খুবই অন্যায়" বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

তবে ইউক্রেন সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, লিথুয়ানিয়া, ফ্রান্স এবং তুরস্কের সাথে চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র ক্রয় করছে।

ইউক্রেনের কেনাকাটার তালিকায় ক্ষেপনাস্ত্র বিধ্বংসী এবং বিমান বিধ্বংসী সিস্টেম, যুদ্ধের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং সাইবার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র কিনতে আগ্রহী, যেগুলো একই সাথে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

বাইডেন প্রশাসন গত মাসে ইউক্রেনে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সুরক্ষা সহায়তা হিসেবে ২০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে এবং বুধবার আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিলে, ব্যয় বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে নতুন সরবরাহের বিকল্পগুলি বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউজ। এছাড়া রাশিয়া বড় ধরণের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে এই আশঙ্কার মধ্যে, প্রশাসন ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে আরও ট্যাংক বিধ্বংসী জ্যাভলিন ক্ষেপনাস্ত্র এবং বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

কিন্তু নেটো মিত্ররা ইউক্রেনের পশ্চিমা জোটে যোগদান না করার জন্য রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে একমত হলেও, তাদের মধ্যে এ বিষয়ে বিভক্তিও দেখা দিয়েছে যে, আক্রমণ শুরু হলে রাশিয়ার উপর কি ধরণের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত হবে।

বর্তমান এবং সাবেক পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, সামরিক অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যে মোটা দাগের সমঝোতা থাকলেও থাকলেও, বিশদ বিবরণসহ এ ব্যাপারে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি নেই।

XS
SM
MD
LG