অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অস্থিতিশীল আফগানিস্তান বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: বাংলাদেশ


আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বিক্রেতারা খাবারের ট্রে নিয়ে যাচ্ছে। ২২ আগস্ট ২০২১।

বাংলাদেশ মনে করে, একটি অস্থিতিশীল আফগানিস্তান আঞ্চলিক, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই বাংলাদেশ চায়, দেশটিতে স্থায়ী শান্তি।এজন্য সকল পক্ষকে নিয়ে একটি অর্থপূর্ণ সংলাপ। মঙ্গলবার জিনিভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে এই মতামত ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজন যেটার নেতৃত্ব দেবে আফগানিস্তান। রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও কার্যকর রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চায়। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত এটাও বলেন, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে চায়। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে যাতে আরেকটি মানবিক বিপর্যয় না হয়, তা এড়ানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের এই দূত।

স্মরণ করা যায় যে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোসহ শতাধিক দেশের অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে। এই অধিবেশনে আফগানিস্তানে মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষা জোরদারকরণ শীর্ষক একটি প্রস্তাব সর্ব-সম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। অধিবেশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে জোর দেয়া হয়। বলা হয়, দেশটিতে এখন প্রয়োজন নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক শাসন। দেশটিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই মুহূর্তে জরুরি। কিন্তু যেসব খবরাখবর আসছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। নারী নিগ্রহের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে আফগান মহিলাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এসব কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।

২৭ জাতির এই জোট আরও বলেছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তারা দেখতে চায়, ভবিষ্যত আফগান সরকার কীভাবে মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বিশেষ অধিবেশনে ভারতীয় প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত মণি পাণ্ডে বলেন, যেভাবে দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তাতে সবাই উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ভারত বরাবরই শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল আফগানিস্তান দেখতে চায়।

XS
SM
MD
LG