অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করা আফগান নাগরিকদের বিশেষ ভিসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


আফগানিস্তানে অনুবাদকের সহায়তায় এক গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা সদস্য। ফাইল ফটো- ইউএস মেরিন করপস।

বত্রিশ বছর বয়সী আফগান স্থপতি মাসোমা ডেলিজাম ২০১৭ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে আমেরিকায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে  করা উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করায় তালেবান টার্গেটে পরিণত হয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। 

হাজার হাজার আফগান নাগরিক যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন, আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে তালেবান জঙ্গিদের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিতে তাঁদের ওপর হামলার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাঁদেরকে বিশেষ ভিসা দিচ্ছে। এই ভিসা কর্মসূচীর আওতায় আফগানিস্তান ছেড়ে আসা এক নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের সহকর্মী মাহদি মেহরিন।

বত্রিশ বছর বয়সী আফগান স্থপতি মাসোমা ডেলিজাম ২০১৭ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে আমেরিকায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে করা উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করায় তালেবান টার্গেটে পরিণত হয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

সেইসব প্রকল্পের মধ্যে একটি ছিল কাবুলের দারুল আমান প্রাসাদ যা ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধে সাঙ্ঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আফগান স্থপতি মাসোমা ডেলিজাম
আফগান স্থপতি মাসোমা ডেলিজাম

সেই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে কিভাবে তিনি তালেবান আক্রোশের শিকার হন তা ভুলতে পারেন না মাসোমা।

“কান্দাহারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে চলমান একটি প্রকল্পের উদ্দেশ্যে কয়েকজন আফগান সহকর্মীর সঙ্গে গাড়ীতে করে যাচ্ছিলাম। আমাদের ড্রাইভার বুঝতে পেরেছিলেন কেউ আমাদেরকে অনুসরণ করছে। আমরা পথ পরিবর্তন করি এবং দ্রুত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে ফোন করি। তারা আসলে অনুসরণকারীরা চলে যায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী আমাদেরকে জানায় তালেবান জঙ্গিরা আমাদেরকে অপহরণ করতে চেয়েছিল। আমাদের ভাগ্য ভালো তালেবান আমাদের কিছু করতে পারেনি। তারা যদি সেদিন আমাদেরকে অপহরণ করতো, আজ হয়তো আমি জীবিত থাকতাম না”।

স্পেশাল ইমিগ্র্যাণ্ট ভিসা বা SIV কর্মসূচীতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ডেলিজাম তাঁর স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে নতুন জীবন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াশিংটনে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তিনি।

“আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকল্পে কাজ করেছেন, সেখানে তাঁদের নিরাপত্তার অভাবের প্রেক্ষিতে, SIV তাঁদের জন্যে দারুণ একটি সুযোগ। আমি এটা পেয়ে অত্যন্ত খুশি”।

জুন মাসের প্রথমদিকে তালেবান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে যেসব আফগানি কাজ করেছেন তারা যদি নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা করে এবং না পালায় তবে তারা নিরাপদ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে No One Left Behin নামের একটি গোষ্ঠী বলছে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দোভাষী হয়ে যারা কাজ করেছেন তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্য মিলে ২০১৪ সাল থেকে তালেবান ৩০০ জনকে হত্যা করেছে।

ডেলিজামের ভয় হয় আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তাঁর বাবা মা ভাই বোন কাবুলে কতোটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

“আমার মতো এখানে বসবাসকারী বেশিরভাগ আফগানের শুধু শরীর এখানে, মন পড়ে আছে দেশে ফেলে আসা পরিবারের কাছে। মনে হয় তারা নিরাপদ নন। যেখানে যুদ্ধ লেগেই রয়েছে, প্রতিটি দিনই অনিরাপদ। সর্বদাই তাদের নিরাপত্তা কামনা করি”।

আফগান সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হাসান রেজাইয়ের মতে বিশেষ এই ভিসা প্রোগ্রাম SIV যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তান উভয়ের জন্যেই ভালো।

“এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর আফগান অংশীদারদের প্রতি নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । এই কর্মসূচির একটি সামাজিক প্রভাবও আছে। এর ফলে হাজার হাজার আফগানি যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনীকে সহায়তা করেছেন তাদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্কের সৃষ্টি হবে যা আফগানিস্তানের সহায়তায় কাজে লাগবে”।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলছে বিশেষ ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০০৮ সাল থেকে ৭০ হাজার আফগাননাগরিককে ভিসা দেয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে আরও ২৫০০ আফগানকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ভার্জিনিয়ার ফোর্ট লি তে ২০০জন ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন ।

XS
SM
MD
LG