নতুন দিল্লির যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আজ ভারত সরকারের কাছে আন্দোলনরত ক্রুদ্ধ কৃষকদের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসে সমাধান সূত্র বের করার আবেদন জানিয়েছে। ওদিকে আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ আজ ভারত বিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে। কৃষকদের সঙ্গে সরকারের মিটমাট করে নেওয়ার জন্য চাপ আসছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। কিন্তু ভারত সরকার অনমনীয় মনোভাব নিয়ে চলছে। উপরন্তু কৃষকদের মনোবল ভেঙে দিতে তাঁদের অবস্থানস্থলে জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, বন্ধ রেখেছে ইন্টারনেট সংযোগ।
মাসের পর মাস ধরে কৃষক আন্দোলন চলছে নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে। সরকার বলছে, এই আইনগুলি কৃষকদের উপকার করবে। কারণ বৃহৎ ব্যবসায়ী সংস্থাগুলো কৃষিখাতে মূলধন জোগাতে উৎসাহী হবে। আর কৃষকেরা বলছেন, এতে তাঁদের কোনও লাভ হবে না। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, লাভ হবে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাই আইন তুলে নেওয়ার দাবিতে মূলত উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লি সংলগ্ন এলাকাগুলোর কৃষকেরা গত কয়েক মাস ধরে দিল্লির চারপাশে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। এই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন। কিন্তু তাঁরা পিছু হটবেন না ঠিক করেছেন। এদিকে কৃষকদের ঠেকানোর জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, চিন ভারতের ভেতরে ঢুকে জমি দখল করে ঘাঁটি বানিয়ে ফেলছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ভারত সরকারের নেই। দেশের নিরীহ কৃষকদের তারা শত্রু বানিয়েছে। তাঁদের ঠেকানোর জন্য হাজার হাজার পুলিশ আর অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে কৃষক আন্দোলন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পপস্টার রায়হানা কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা ঘোষণা করতেই স্বঘোষিত বিজেপি কঙ্গনা রানাওয়াত সঙ্গে সঙ্গে রায়হানাকে বোকা বলে সম্বোধন করে চুপ করে থাকতে বলেছেন। আজ টুইটার কর্তৃপক্ষ রানাওয়াতের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। রায়হানের সঙ্গে গলা মিলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুইডেনের পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত পপ তারকা জে শিন, মিয়া খলিফা সহ হলিউড তারকাদের অনেকে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের বোনঝি মীনা হ্যারিস সহ ব্রিটেনের
একাধিক এম পি জানিয়েছেন এ ব্যাপারে সরকারের বিবৃতি দাবি করে আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এবার তাঁরা বিষয়টি পার্লামেন্টে তুলবেন।
তবে এইসব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত সরকারও পাল্টা প্রচারে নেমে পড়েছে এবং ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশপ্রেম ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের ডাক দেওয়া হয়েছে।। তাতে সাড়া দিয়েছেন লতা মঙ্গেশকর, শচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগণ, প্রমুখ গায়ক, খেলোয়াড়, অভিনেতারা। শচিন তেন্দুলকার বলেছেন, বিদেশিরা পর্যবেক্ষক হতে পারেন, কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাপারে মাথা গলানোর অধিকার তাঁদের নেই। ভারতীয় নেটিজেনরা বলছেন, দেশ এখন শুধুমাত্র ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বাঁধা নেই। সারা বিশ্ব সবকিছুর উপর নজর রাখে। যেখানে মানুষের ক্ষতি হয়, সেখানে সমালোচনার অধিকার যে কারও আছে।