অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রথমবারের মত মানুষের দেহে শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা


মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া ছবিতে চিকিৎসক দল রোগী ডেভিড বেনেটের হৃৎপিণ্ডে প্রতিস্থাপনের আগে শূকরের হৃদপিন্ডটি দেখাচ্ছেন, ১০ই জানুয়ারী, ২০২২,ছবি/ মার্ক টেসকে/মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিন/এপি
মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া ছবিতে চিকিৎসক দল রোগী ডেভিড বেনেটের হৃৎপিণ্ডে প্রতিস্থাপনের আগে শূকরের হৃদপিন্ডটি দেখাচ্ছেন, ১০ই জানুয়ারী, ২০২২,ছবি/ মার্ক টেসকে/মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিন/এপি

চিকিৎসার ইতিহাসে প্রথমবারের মত চিকিৎসকেরা এক রোগীর জীবন বাঁচাতে শেষ চেষ্টা হিসাবে শূকরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করলেন।মেরিল্যান্ডের একটি হাসপাতাল সোমবার জানায় যে অত্যন্ত পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারের ৩দিন পর রোগীর অবস্থা এখন ভালো।

এই অস্ত্রোপচার সফল হবে কিনা তা এখুনি বলা যাবে না, তবে জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো প্রাণীর প্রত্যঙ্গ ব্যবহার নিয়ে যে বহু দশকের অনুসন্ধান, সেক্ষেত্রে এটি একটি পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে।ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকেরা জানান, এই প্রতিস্থাপন প্রমান করে যে জেনেটিকালি মডিফাইড প্রাণীর হৃৎপিণ্ড মানবদেহে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান ছাড়াই কাজ করতে পারে।

ডেভিড বেনেট নামের ৫৭ বছরের রোগী জানতেন যে এই পরীক্ষামূলক অস্ত্র চিকিৎসার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ম্যারিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালরের এক বিবৃতিতে বলা হয় ,অস্ত্রোপচারের একদিন আগে বেনেট বলেন, "হয় মরতে হবে বা এই প্রতিস্থাপন করতে হবে, আমি জানি এটা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মত, তবে এটা আমার শেষ প্রয়াস" I

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া ছবিতে দেখা যায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বল্টিমোরে ড: বার্টলি গ্রিফিথ রোগী ডেভিড বেনেটের সাথে সেলফি তুলছেন । প্রতিস্থাপনের জন্য মানুষের দান করা প্রত্যঙ্গের ঘাটতির কারণে বিজ্ঞানীরা তার পরিবর্তে প্রাণীর প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন।ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অর্গান শেয়ারিং, যারা দেশব্যাপী প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার তদারকি করে, তারা জানায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড সংখ্যক ৩,৮০০টির কিছু বেশি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

তবে এ ধরণের পূর্বেকার প্রতিস্থাপন বা জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন-এর প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীর দেহ প্রাণীর প্রত্যঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছিল।উল্লেখযোগ্য যে ১৯৮৪ সালে বেবি ফায়ে নামের একটি মুমূর্ষু শিশু বাবুনের হৃৎপিণ্ড নিয়ে ২১ দিন বেঁচেছিল।

তবে এবারে যেটা আলাদা, তা হচ্ছে চিকিৎসকেরা এবারে শূকরের এমন একটি হৃৎপিণ্ড ব্যবহার করেছেন, যার রক্ত কণিকায় চিনির পরিমান কমাতে এটিতে জীন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যা না করার কারণে, আগে দেহ দ্রুত কোনো প্রত্যঙ্গ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

XS
SM
MD
LG