অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারী কন্ঠ: স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দূরের মানুষের আশ্রয়ের আশ্বাস


নিউইয়র্কের বন্দরে যুগ যুগ ধরে এক নারী মূর্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে– দূরের মানুষকে আশ্রয়ের আশ্বাস দিয়ে কাছে টেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ফ্রান্সের উপহার Statue of Liberty. ফ্রান্স ১৮৮৬ সালের অক্টোবর মাসে ঐ উপহার পাঠিয়েছিল যার নাম তাদের কথায় The Statue of Liberty Enlightening the World. আজ আমেরিকায় যখন অভিবাসীদের নিয়ে নানা খবরাখবর, আলোচনা চলছে এই সময়ে আমরাও লেডি লিবার্টির কথা শুনতে চাই জানতে চাই। উপস্থাপন করছেন রোকেয়া হায়দার।

please wait

No media source currently available

0:00 0:13:47 0:00

এই নারী মূর্তি পৃথিবীর বিভিন্ন মানুষের কাছে অভিবাসীদের জন্য এক বিশেষ প্রতীকের কথা আলোচনার আগে শোনাতে চাই সেই ১৮৮৩ সালে লিবার্টির বিশাল মূর্তি দেখে মুগ্ধ আমেরিকান কবি এমা লাজারুসের রচিত কবিতার কিছু অংশ ও তার বাংলা ভাষ্য।

বর্তমানে মাল্টি মিডিয়ার বদৌলতে যখন সারা বিশ্বের মানুষ দেখছেন অভিবাসীর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশ থেকে আসা মানুষের ভীড় জমেছে এ দেশের সীমান্তে, অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কড়া বিধি নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে সেই সময়ে নিউইয়র্কের উপকূলে আলোর মশাল হাতে দাঁড়িয়ে, পা খানি যার শৃঙ্খল মুক্ত- যে মূর্তি ৩০৫ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা, ওজন ২২৫ টন। সেই বিশাল নারী মূর্তি আজো হাতছানি দেয় অভয় আশ্রয়ের সীমানায়।

১৮শো সালের মাঝামাঝি কি ধ্যানধারণায় ফরাসী শিল্পী কার আদলে গড়েছিলেন এই নারী মূর্তি।

সে কথাই বলছি – কোন প্রতীক হিসেবে বিশ্বের সবচাইতে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ নারী মূর্তি হচ্ছে "The Statue of Liberty। ফরাসী ভাস্কর Frédéric-Auguste Bartholdi তার মা Marie Bartholdiর মুখের আদলে রূপ দিয়েছিলেন এই মূর্তির। আসলে শিল্পী বার্থোলডি তামার মূর্তি গড়তে চেয়েছিলেন এবং তিনি অনেক মডেলের কথা বিবেচনা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা যায় – মায়ের মুখটি গেঁথে ছিল তার হৃদয়ে, আজ তার মায়ের মুখটি চির ভাস্বর হয়ে রয়েছে লেডি লিবার্টির মাঝে।

১৯৮৬ সালে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালিত হয় প্রেসিডেন্ট রেগ্যান জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এখন আবার স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এই কারণে যে– আগামী বছর ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে স্ট্যগচু অফ লিবার্টির মোউজিয়াম উদ্বোধন করা হবে। যারা এই প্রকল্পের ডিজাইন করেছেন তাদেরই একজন Nicholas Garrison তিনি বলছিলেন, "আমরা যখন এলিস আইল্যাণ্ডে প্রথম যাই আমরা একেবারে অভিভূত হয়ে যাই। সেখানে মানুষজন নতজানু হয়ে কাঁদছেন। তাদের কাছে এই মূর্তি এই স্থান যে কত পবিত্র, কি বিশাল তা না দেখলে বোঝা যায় না। সত্যিই এক পবিত্র স্থান। কি বিরাট তার প্রভাব।

প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখতে যান। মিউজিয়ামের প্রধান ডিজাইনার Edwin Schlossberg জানালেন, "আমরা এই কথাটিই সবাইকে বলতে চাই যে, আমরা স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই এবং স্বাধীনতার ধ্যানধারণা রক্ষা করতে চাই"।

তবে সবাই তো এক ধারণা নিয়ে যায় না। ভিন্ন ধারণা থাকে। কস্টারিকা থেকে যাওয়া একন পর্যটক মার্টা ফালাস যেমন বলেন- "এর মাঝে সেইসব মানুষের সবার যারা কিনা সমতা ও নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে এই দেশে এসেছেন তাদের প্রচেষ্টার প্রতীক হচ্ছে এই মূর্তি"।

স্পেনের পর্যটক ফারনান্দেজ বললেন-"আমরা নিজেরা মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করি তবে অন্য সবার স্বাধীনতার মর্যাদা দেব"।

নিকোলাস গ্যারিসান বলেন, ঐ মূর্তি কেমন যেন আনমনা করে তোলে। তবে তা অনুপ্রেরনা জোগায় এক অজানা অনুভূতি। লেডী লিবার্টির কাছে থেকে দাঁড়িয়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের সারিবদ্ধ আকাশচুম্বী দালানকোঠা দেখা যায়। আর সেই দৃশ্য দূর দূরান্ত থেকে দারুণ আশার সঞ্চার করে প্রবাসী মনে। হাডসন নদীর উত্তাল জলরাশির মাঝে কোন শ্রান্ত ক্লান্ত পথিকের মনে জাগিয়ে তোলে মুক্তির আশা। যে আশা আকাঙ্খা নিয়ে যুগে যুগে অভিবাসীদের তরী ভিড়েছে নিউইয়র্কের ঐ বন্দরে। পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের কাছে মুক্তি আর আশার প্রতীক স্ট্যাচু অফ লিবার্টি।

XS
SM
MD
LG