অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস: চলতি অর্থ বছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ 


বিশ্ব ব্যাংক লোগো - এএফপি

বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬.৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে যদিও দেশটির সরকার বছরটির জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ৭.২ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার 'শিফটিং গিয়ারস: ডিজিটাইজেশন অ্যান্ড সার্ভিস লেড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট' শিরোনামের দক্ষিণ এশিয়ার সর্বসাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত জুনে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.১ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। বছরটিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের হিসাব সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বা এডিবি'র চেয়ে কম।

গত জুন মাসে সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করেছে তাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.২ শতাংশ এবং গত সেপ্টেম্বরে এডিবি'র পূর্বাভাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাব হচ্ছে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৪৭ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি ধীরে ধীরে বেগবান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে । তবে পুনরুদ্ধারের এই গতি বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করছে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার গতির ওপর বলে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলেছে টিকার সরবরাহ বাড়লে এবং মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে অবশ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে কম প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত রপ্তানি, আর্থিক খাতের ক্রমবর্ধমান দুর্বলতা, ভারসাম্যহীন নগরায়ন এবং ব্যবসার পরিবেশের ধীরগতিতে উন্নতি । এই দুর্বলতাগুলোকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক বিশ্বব্যাংক বলেছে বৈশ্বিক চাহিদা ঘুরে দাঁড়ানো আর করোনা ভাইরাসের সাম্প্রতিক ঢেউ মোকাবিলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ অর্থনীতিতে কম প্রভাব ফেলতে সহায়তা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনও ভঙ্গুর ও অসম। দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ এখনও করোনা মহামারি শুরুর আগের অবস্থান থেকে অনেক পিছনে রয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে ।

বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির মতে বছরটিতে ভারতের ৭.৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ৩.৪ শতাংশ, নেপালের ৩.৯ শতাংশ, ভুটানের ৩.২ শতাংশ, শ্রীলংকার ২. ১ শতাংশ এবং মালদ্বীপের ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনটির প্রকাশনা উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার বলেছেন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো রপ্তানি পরিষেবা, বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং পর্যটনে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

XS
SM
MD
LG