অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিদায়ী ২০১৬ বাংলাদেশের জন্য একদিকে ইতিবাচক এবং অন্যদিকে নেতিবাচক খবরা-খবরে ছিল পূর্ণ। এ বছরটিতে পদ্মা সেতু নির্মাণে অগ্রগতি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন ও মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু, বড় বড় প্রকল্প গ্রহণের কাজ যেমন হয়েছে; তেমনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র ঢাকা সফর ছিল উল্লেখযোগ্য। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন এবং জঙ্গীবাদ-বিরোধী কার্যক্রমে অংশীদারিত্বের অধিকতর বৃদ্ধিতে দুই দেশ ওই সময় দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সফরও অনুষ্ঠিত হয় এ বছরই। অপরদিকে, গুলশানে জঙ্গী হামলায় ১৮ জন বিদেশী নাগরিক, ২ পুলিশ কর্মকর্তা, ৫ জঙ্গীসহ মোট ২৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পুরো বছরই ছিল বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার এবং জঙ্গীদের পুন:উত্থানের বছর। শিক্ষিত তরুণ এবং নারীরা যে জঙ্গীবাদে আকৃষ্ট হচ্ছে; ইসলামিক স্টেট বা আইএস, আল কায়েদার উপস্থিতি বাংলাদেশে রয়েছে --এমনটি জানান দিয়ে গেছে বছরটি। এছাড়াও অন্যান্য জঙ্গী হামলায় বিদেশী নাগরিক, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যাজক-পুরোহিত হত্যা ও তাদের উপসনালয়ের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে; ক্ষুন্ন হয়েছে দেশের ভাবমূর্তি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না বলে বছর জুড়েই অভিযোগ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
রাজনৈতিক অংগনে অস্থিরতা না থাকায় এবং নিস্তরঙ্গতায় রাজনীতিহীন ছিল বছরটি। তবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬-তে- দলকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে। তবে বছরের শেষ সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি বাদ দিলে ২০১৬-তে অনুষ্ঠিত পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে সংঘটিত বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থ কেলেংকারির পরে ২০১৬-তে এসে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাটের ঘটনা দেশে-বিদেশে আলোড়নের সৃষ্টি করে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটো ঘটনাই ঘটেছে ২০১৬-তে।
২০১৬ সাধারণ মানুষের জন্য কেমন ছিল- এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল কয়েকজন সাধারণ মানুষকে।
রাজনৈতিক অংগনে তেমন কোনো ঘটনা না থাকলেও মাঠে-ময়দানে-নির্বাচনে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনগুলো ছিল আলোচনার বিষয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল সে সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন রাজনীতিক, বিশ্লেষক, লেখক হায়দার আকবর খান রনো।
মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে-এমনটাই দাবি মানবাধিকার সংগঠন ও সক্রিয়বাদীদের। গুম, জোর করে উঠিয়ে নেয়া, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। ঢাকায় মানবাধিকার সংগঠন আইন শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান বিশ্লেষণ করেছেন ২০১৬ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক এবং নেতিবাচক ঘটনার মধ্যদিয়েই এগিয়ে গেছে- এমনটাই বলছেন গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বছর ছিল ২০১৬। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে চীন ও জাপানের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ প্রচেষ্টা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বছর শেষে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাপ সহ্য করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সব মিলিয়ে ভালোয়-মন্দে গেছে ২০১৬।

সাধারণ মানুষ ও কয়েকজন বিশ্লেষকের মন্তব্য সহ সালতামামি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন ঢাকা থেকে আমীর খসরু।

XS
SM
MD
LG