অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টিকে সরকার গুরুত্বের সাথে দেখবে: আইনমন্ত্রী


বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি'র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক কালে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি আইনমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রদানের বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপি গ্রহণের পর আইনজীবীদের সাথে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আলোচনা কালে আনিসুল হক বলেছেন আইনজীবীদের দেওয়া ওই স্মারকলিপি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

তিনি বলেন আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে। প্রতিনিধিদল ৪০১ ধারার উপধারা ১ এ বিদেশে যাওয়া যাবে না এমন কোন শর্ত নাই বলে যে বক্তব্য দিয়েছে তার উল্লেখ করে তিনি বলেন সেখানে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে কিছু বলা না থাকলেও একটা কথা বলা আছে সেটা হল শর্তযুক্ত বা শর্তমুক্ত। তিনি বলেন স্মারকলিপিটিকে অবশ্যই পর্যালোচনা করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত ও মতামতের ব্যপারে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেটা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন যখন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হয় তখন পরিবারের যে আবেদন সেটাকে মানবিক দিক থেকেই সরকার দেখেছে। তখন কিন্তু কোনও দাবি তুলতে হয় নাই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন সরকারের দিক থেকে মানবিকতার কোন কমতি নাই। তিনি বলেন আজই এখন যদি কিছু বলা হয় সেটা ঠিক হবে না। কেউ জানে বেঁচে না থাকুক সেটা সরকারের উদ্দেশ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন দেশে তাঁর যে চিকিৎসা হচ্ছে সেটা সরকারসহ সকলেই দেখছে। তিনি প্রতিনিধিদলকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন ।

প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট মহাম্মদ রুহুল কদ্দুস কাজল, নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বাদল ।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং দেশের একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক গুরুতর অসুস্থ। তাকে দ্রুত বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে সরকারের কাছে যা এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৭৬ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপার্সন বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলেও সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগারের বাইরে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। নানা স্বাস্থ্য সমস্যার জটিলতায় তিনি ভুগছেন বলে তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক দফা আবেদন করা হয়েছে। তবে সরকার বলে আসছে বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাগারে ফিরে আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হবে। এখন যে অবস্থায় আছেন তাতে আবেদন নতুন করে বিবেচনার কোনও সুযোগ নাই।

এদিকে, বিএনপি মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে দলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেয়া হবে। দলের সর্বোচ্চ নিতি নির্ধারণী সংস্থা স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

XS
SM
MD
LG