অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আদালতের বিষয় - শেখ হাসিনা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে পরিবারের তরফে যে আবেদন করা হয়েছে এ বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নির্বাহী প্রধান হিসেবে তিনি তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছেন। এখন যে দাবি করা হচ্ছে সেটি আদালতের বিষয়।

বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে, এই তো বেশি। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন- যে আপনাকে হত্যা করতে চায়, তাকে আপনি কি ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসবেন?

সাম্প্রতিক ইউরোপ সফরের বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে ভার্চুয়ালি প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসক ও দলের নেতারা দাবি করে আসছেন অতি সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শের বরাতে খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার আবেদন করেছেন। এ আবেদনের বিষয় প্রকাশের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অবশ্য সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, এ ধরনের আবেদন আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। নতুন করে আবেদন করার সুযোগ নেই।

ওদিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ আরও কিছু বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। আর কতো টাকা ভর্তুকি সরকার দিতে পারবে?

কেবল জ্বালানি তেলেই ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কতো টাকা ভর্তুকি দেবো? বাজেটের সব টাকা তাহলে ভর্তুকিতে দিয়ে দেবো। তাহলে কিন্তু সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় কতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কতো মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছিল, কতো মানুষের হাত কাটা, চোখ তুলে নেয়া কিংবা ঘরবাড়ি দখল হয়েছিল তার হিসাব নেই। ওই সময় দেশে কেমন সহিংসতা হয়েছিল তা ভুলে যাইনি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা হোক এটা আমরা চাই না। চেয়ারম্যান পদে আমরা প্রতীক দিচ্ছি। সেখানে কিন্তু মেম্বারদের ভোটও হয়, আমরা প্রতীক দিই না। এই অবস্থায় মেম্বারদের পদেও কিন্তু গোলমাল হয়। নির্বাচন নিয়ে যেখানে যেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আমরা ব্যবস্থা নেবো এবং নিচ্ছি।

সর্বশেষ টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরমেন্স নিয়ে এক প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রী অবশ্য আশার বাণী শুনিয়েছেন। প্রশ্নকারী সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খেলা দেখে আপনারা এত হতাশ হন কেন? আমি হতাশা দেখতে চাই না। কয়েকটা খেলা তারা চমৎকার খেলেছে। কথায় কথায় এত হতাশ হওয়া ঠিক নয়। আগামীতে আরও ভালো করবে তারা।

XS
SM
MD
LG