অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুন্দরবনের বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ধরা পড়ে গেল সাত জলদস্যু।


পাক্কা এক বছর ধরে তক্কে তক্কে ছিল পুলিশ৷ একের পর এক অপরাধ হচ্ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়৷ কখনও মধুর নৌকা লুঠ৷ কখনও আবার কাঁকড়া কিংবা মাছের নৌকায় ডাকাতি৷ না হলে মাঝিদের অপহরণ, নয়তো টুরিস্ট লজে ডাকাতি৷ মাঝিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে গত কয়েক মাসে৷ অপরাধের ঘটনা মাত্রা ছাড়িয়েছিল৷ অপরাধ রুখতে গিয়ে কুলতলিতে দুই পুলিশ আধিকারিকও খুন হন কয়েক দিন আগে৷ সে কারণে রীতিমতো ফাঁদ পেতে অপেক্ষায় ছিল পুলিশ৷ দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সাফল্য৷ ধরা পড়ে গেল সাত জলদস্যু৷ গায়েনের চক গ্রাম সংলগ্ন মাতলা নদীর বুক থেকে শুক্রবার রাতে ওই সাত জলদস্যুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের একটি বিশাল দল৷ ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫টি ব্যারেল গান বা দু’নলা বন্দুক, ১টি ওয়ান শটার৷ ৪২ রাউন্ড গুলি৷ এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র যার মধ্যে রয়েছে কুড়ুল, হাণ্টার নাইফ বা মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত শিকারের ছুরি ও বেশ কয়েকটি চপার৷ এই সাত জলদস্যুর মধ্যে এক জনের বাড়ি বাংলাদেশে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ বাকিদের বাড়ি কুলতলি ও বাসন্তী থানা এলাকায়৷ দীর্ঘদিন ধরেই পু্লিশের কাছে খবর ছিল, বাংলাদেশ এলাকার জলদস্যুদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে এরাজ্যের বেশ কয়েক জন জলদস্যু৷ রীতিমতো একটি টিম তৈরি হয়েছে জলদস্যুদের৷গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশাল দল তৈরি হয়৷ রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ৷ এই বিশেষ দলে ছিলেন এসডিপিও, কুলতলি থানার আইসি-সহ জেলার উচচপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা৷ শেষপর্যন্ত হাতেনাতে এদের ধরে ফেলে পুলিশ৷ এর আগে একাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও লুঠপাটের অভিযোগে কুতুবুদ্দিন মোল্লা নামে এক জলদস্যুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ গ্রেফতারির পর জেল থেকে পালিয়ে ফের দল তৈরি করে জলদস্যু কুতুবুদ্দিন৷ একটি নৌকায় ডাকাতি করার সময় ফের পুলিশের জালে ধরা দেয় সে৷ তারপরও এই ধরনের ঘটনা রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল পুলিশের৷ এই সাত জলদস্যু ধরা পড়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে পুলিশ প্রশাসন৷ তবে এখানেই শেষ নয় বলে মনে করছে পুলিশ৷ এই দলটি আরও বড় বলে মনে করছে পুলিশ৷ বাকিদের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর৷

XS
SM
MD
LG