অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের “হীরালাল সেন পদক” পেল নোনা জলের কাব্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের (ডিইউএফএস) এর বাংলা ১৪২৮ সালের “হীরালাল সেন পদক” প্রদান অনুষ্ঠান। (ছবি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সৌজন্যে)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের (ডিইউএফএস) বাংলা ১৪২৮ সালের “হীরালাল সেন পদক” পেয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “নোনা জলের কাব্য”। এই পদক দেওয়ার মাধ্যমে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের “আমার ভাষার চলচ্চিত্র ১৪২৮” শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব সমাপ্ত হয়েছে।

গত দুই বছরে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এবার হীরালাল সেন পদকের জন্য মনোনীত হয়েছিল “নোনাজলের কাব্য”, “রাত জাগা ফুল”, “রেহানা মরিয়ম নূর”, “চন্দ্রাবতী কথা ও “লাল মোরগের ঝুঁটি”। বিচারকেরা নোনা জলের কাব্য চলচ্চিত্রটিকে এ বছর হীরালাল সেন পদকের জন্য নির্বাচিত করেন।

এ ছাড়া এ বছর শ্রেষ্ঠ কাহিনির জন্য “লাল মোরগের ঝুঁটি”, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনার জন্য “রেহানা মরিয়ম নূর” ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণের জন্য “চন্দ্রাবতী কথা” চলচ্চিত্রকে হীরালাল সেন পদক দেওয়া হয়েছে।

নোনা জলের কাব্য চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ছিল, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার লড়াই, জেলেসমাজের রীতি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব।

চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)। শনিবার পুরস্কার প্রদান ও সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি লাইলুন নাহার শেমী, ডিইউএফএসের আজীবন সদস্য রোদেলা নিরুপমা ইসলাম, অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল, পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও হুমায়রা বিলকিস প্রমুখ চলচ্চিত্র কলাকুশলী।

অনুষ্ঠানে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এই সময়ে দর্শকদের সিনেমা হলে চলচ্চিত্র দেখার আয়োজনকে একটি উৎসব হিসেবে নিয়মিত উদ্‌যাপন করায় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদকে সাধুবাদ জানাই।”

লাইলুন নাহার বলেন, “আমরা যখন চলচ্চিত্র আন্দোলন করতাম, তখন দুটি কথা বলতাম। এক, চলচ্চিত্র নির্মাণ; দুই, দর্শক নির্মাণ। আজ এই আয়োজন দেখে আমার মনে হচ্ছে, আমাদের আন্দোলন সফল।”

ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে ডিইউএফএস। এবারের আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। এবার ছিল এই উৎসবের ২০তম আসর।

উৎসবে পাঁচ দিনে দুই বাংলার ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ও একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এর মধ্যে ছিল “রেহানা মরিয়ম নূর”, “লাল মোরগের ঝুঁটি”, “চন্দ্রাবতী কথা”, “নোনা জলের কাব্য”। এসব সমসাময়িক সিনেমার পাশাপাশি প্রদর্শিত হয়েছে “আগন্তুক”, “জীবন থেকে নেয়া”, “ধীরে বহে মেঘনা” দর্শক নন্দিত সিনেমা।

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য উৎসবে চলচ্চিত্র উপভোগের পাশাপাশি ছিল নির্মাতা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। এ বছর উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার ফেস্টুন প্রদর্শনী, বাংলা চলচ্চিত্রবিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং চলচ্চিত্র নিয়ে মতবিনিময় সভাও হয়।

XS
SM
MD
LG