অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের খুলনা জেলায় শিশুরোগ ও ডায়রিয়া বেড়েছে


হাসপাতাল (প্রতীকী ছবি)

বাংলাদেশের খুলনা জেলায় শিশুসহ সব বয়সের মানুষ ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, মাথা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় খুলনা শিশু হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

খুলনা মহানগরীর বাস্তুহারার বাসিন্দা নুরজাহান জানান, তিনি তার সন্তানকে শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে নিয়ে এসেছেন। শিশুটির কয়েক দিন ধরে জ্বর।

জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুর ইকড়ি গ্রামের তানভীর গত ১২ দিন ধরে শিশু হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থান করছে। তার মা তানিয়া বেগম বলেন, “এখানে আসার কয়েক দিন আগ থেকে তানভীরের জ্বর হয়। ওষুধ খেয়েও জ্বর ভালো হয়নি। এখানে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারলাম আমার ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। প্রথম দিকে রোগীর চাপে এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে চাপ কম রয়েছে”।

শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ দেব নাথ বলেন, “২৭২ শয্যা নিয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চলছে। গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দৈনিক জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ শর বেশি রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১৫ জনের মতো ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অন্য বিভাগের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম, তবে মে থেকে অগাস্ট পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে”।

সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. এস আরফিন টুটুল বলেন, “প্রতি বছরই আবহাওয়া বা মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে কোনো সমস্যা হয় না। এ সময় আক্রান্ত শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগসহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে চলতে হবে”।

শিশু হাসপাতালের মতো খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও রোগীদের বেশ চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই চাপ সামলাতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের চাপে অনেকে এ হাসপাতালের বারন্দায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি রোগী রায়ের মহল এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “২৬ মার্চ দুপুরে রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে শরবত কিনে খাওয়ার পর থেকেই পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। কোনোভাবে পাতলা পায়খানা না কমায় রাতে হাসপাতালে আসি। আমাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। চারটি স্যালাইন দেওয়ার পর এখন একটু সুস্থ হয়েছি। তবে শরীর এখনো খুব দুর্বল”।

খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “হঠাৎ গরমে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রায় তিন শ রোগী ভর্তি হয়েছেন আমাদের হাসপাতালে। এ ছাড়া আমাদের পরামর্শে অনেকে বাড়িতে একই ধরনের চিকিৎসা নিচ্ছেন”।

XS
SM
MD
LG