অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পোর্ট এলিজাবেথে প্রথম দিনে বাংলাদেশের নায়ক তাইজুল


গিবেরহার সেন্ট জর্জ পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেল্টনকে আউট করার পর বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম উল্লাস করছেন। (ছবি মার্কো লঙ্গারি / এএফপি )

পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের প্রথম দিন, দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ উইকেট ফেলতে পেরেছে
বাংলাদেশ। তবে রানের হিসাবে প্রথম দিন দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে থাকছে—এটা
বলাই যায়। টসে জিতে ব্যাটিং করে প্রথম দিনের খেলা শেষে প্রোটিয়াদের
সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭৮।

ডারবানে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে একজন স্পিনার খেলানো উচিত ছিল কিনা,
সেটি নিয়ে কথা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টে তাদের দুই স্পিনার
কেশব মহারাজ আর সাইমন হারমারকে দিয়েই বাজিমাত করেছে। পোর্ট এলিজাবেথে তাই
মেহেদী হাসান মিরাজকে একজন সঙ্গী দিয়েছে বাংলাদেশ—বাঁ হাতি স্পিনার
তাইজুল ইসলাম। তিনি আজ বাংলাদেশের সেরা। ৭৭ রনে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

পোর্ট এলিজাবেথের উইকেটে স্পিনাররা সুবিধা পাবে মনে করেই দিনের দ্বিতীয়
ওভারেই বোলিং করতে এসেছিলেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মাধ্যমে
অনন্য এক রেকর্ডেরই অংশ হয়েছেন। ১৩৩ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে
পুরোনো এই টেস্ট ভেন্যু পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কে (বর্তমানে
গেবেহা ক্রিকেট গ্রাউন্ড) কোনো স্পিনার হিসেবে বোলিং আক্রমণ সূচনার অংশ
হলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সব টেস্ট ভেন্যুকে হিসাবে নিলে, এমন ঘটনা ৮৭ বছর
পর।

দিনের তৃতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পেতে পারত বাংলাদেশ। খালেদ আহমেদের বলে
উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সারিল এরউয়ির বিরুদ্ধে এলবিডব্লু -এর জোরালো আবেদন
করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু আম্পায়ার দেননি। রিভিউ নেওয়ার
সুযোগ থাকলেও নিজেদের মধ্যে আলাপ–আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি
অধিনায়ক মুমিনুল হক। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় রিভিউটা নিলে নিশ্চিত
করেই এরউয়ি আউট হতেন। আক্ষেপে পুড়তে পুড়তেই অপরপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকার
অধিনায়ক ডিন এলগার বেশ আরাম করেই খেলে যেতে থাকেন।

১২তম ওভারে এসে বাংলাদেশ ব্রেক থ্রু পায়। ততক্ষণে উদ্বোধনী জুটিতে রান
উঠে গেছে ৫২। উইকেট এনে দেন ওই খালেদ আহমেদই। এরউয়ি ৪০ বলে ২৪ রান করে
উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন উইকেটকিপার লিটন দাসকে। লিটন নিজের বাঁ দিকে
চমৎকারভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি নেন। প্রথম সেশনে অবশ্য বাংলাদেশ দক্ষিণ
আফ্রিকার এই একটি উইকেটই ফেলতে পেরেছে। প্রথম সেশনে বাংলাদেশি বোলাররা
খুব ভালো বোলিং করেছিলেন, এটা বলা যাবে না। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন তাইজুল।
তিনি ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৯ রান দেন। বোঝাই যাচ্ছিল, তাইজুলকে খুব
হিসাবে নিয়েই খেলতে হচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের। প্রোটিয়াদের রান
মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত ছিল ১ উইকেটে ১০৭।

মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে ডিন এলগারকে ফেরায় বাংলাদেশ। নিজের ভালো
বোলিংয়ের পুরস্কার পান তাইজুল। দলীয় ১৩৩ রানে এলগার তাইজুলের বলে কাট
করতে গিয়ে, উইকেটকিপার লিটনকে ক্যাচ দেন। ৮৯ বলে ১০টি বাউন্ডারিতে ৭০ রান
করেন এলগার। দ্বিতীয় উইকেটে কিগান পিটারসেনের সঙ্গে ৮১ রান যোগ করেছিলেন
এলগার।

পিটারসেনকে ফেরাতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে যদিও
টেম্বা বাভুমার সঙ্গে ৫১ রান যোগ করেছিলেন পিটারসেন। তাঁকে বাংলাদেশ
ফেরায় সফল এক রিভিউতে। তাইজুলের বলে একটু এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন
পিটারসেন। কিন্তু বল তাঁর প্যাডে লাগে। আবেদন করার পর আম্পায়ার সাড়া না
দিলে, রিভিউ নেন মুমিনুল। আম্পায়ারকে বদলাতে হয় তাঁর সিদ্ধান্ত। পিটারসেন
১২৪ বলে ৬৪ রান করেছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা চা বিরতিতে যায় ৩ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে। ব্যাটিং করছিলেন
টেম্বা বাভুমা ও রায়ান রিকেলটন। এই জুটি অবশ্য কিছুটা ধীরলয়েই খেলছিল। চা
বিরতির আগে–পরে মিলিয়ে বাভুমা ও রিকেলটনের চতুর্থ উইকেট জুটি ১৮৬ বলে ৮৩
রান যোগ করে। এ জুটি দলকে বেশ এগিয়েও দেয়। দলীয় ২৬৪ রানের মাথায়,
রিকেলটনকে ইয়াসির আলীর ক্যাচ বানান তাইজুল। দিনের তখন প্রায় শেষ। তিনি
ফেরেন ৮২ বলে ৪২ রান করে। বাভুমাকে এর একটু পরেই ফেরায় বাংলাদেশ। এই
উইকেটটি নেন খালেদ। তাঁর বলে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে নাজমুল হোসেনকে ক্যাচ দেন
বাভুমা। দলের রান তখন ২৭১।

দিনের বাকিটা সময় দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্বিঘ্নে পার করে দেন কাইল ভেরেইনা
ও উইয়ান মুল্ডার। ভেরেইনা ২৪ বলে ১০ রান করে অপরাজিত আছেন। মুল্ডার ১৯ বল
খেলেও রানের খাতা খোলেননি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭৮/৫ (৯০ ওভার)
এলগার ৭০, বাভুমা ৬৭, পিটারসেন ৬৪
তাইজুল ৩/৭৭, খালেদ ২/৫৯
টস: দক্ষিণ আফ্রিকা

XS
SM
MD
LG