অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দিল্লির সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও এর কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনাবাসী ভারতীয়রাও (নন রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান-এনআরআই) যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে (২৬ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

এ বিষয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, আমরা তাদের (ভারতের) সাহায্য চেয়েছিলাম। তারা আমাদের প্রতি খুব আন্তরিক। তারা (ভারতীয় পক্ষ) বলেছে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবে”।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় কমিউনিটির প্রায় ৪৫ লাখ সদস্যও (যুক্তরাষ্ট্র) সরকারকে অনুরোধ করেছে”।

তিনি আরও বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সম্প্রদায়) খুবই প্রভাবশালী”।

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকায় আসার কথা। তিনি চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিও সফর করেন।

অন্যদিকে আইনপ্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সম্প্রতি বলেছেন, সুস্পষ্ট পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা ছাড়া র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা এমন একটি র‌্যাব চাই যারা সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যেমন কঠোর থাকবে, তেমনি কঠোর থাকবে মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ব্যাপারে”।

বাংলাদেশের পক্ষের কথায় যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ আশ্বস্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা হয়তো এখনো সন্তুষ্ট নন, তবে ভবিষ্যতে তারা সন্তুষ্ট হবেন”।

রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, “র‌্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মানে এই নয় আমরা জোরদার আইন প্রয়োগ বিষয়ে আমাদের ইতোমধ্যে স্থাপিত শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে পারব না”।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাব”।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম পুলিশ, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে”।

র‍্যাব ও সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজিপি বেনজীর আহমেদও রয়েছেন। এ ছাড়া র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

This item is part of
XS
SM
MD
LG