অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অভিন্ন ভাষায় কথা বললেন চার দেশের রাষ্ট্রদূত


সাংবাদিক নেতৃবন্দ এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে চার দেশের রাষ্ট্রদূত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অভিন্ন ভাষায় কথা বললেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূতরা তাদের নিজ নিজ দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে ভুলভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গণ্যমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর জোর দেন। বলেন, যদি গণমাধ্যমের 'টুঁটি চেপে ধরা হয়' তাহলে গণতন্ত্র ধাক্কা খাবে।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, "একটি আইনসম্মত ও অবাধ গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকরা যাতে কোনো রকম ভয়ভীতি, হয়রানি বা সেন্সরশিপ ছাড়া কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি বলেন, "মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।" রাষ্ট্রদূত বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ধারণাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি মুক্তভাবে কাজ করছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বডার্স ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে’- ১৮০টি দেশের মধ্যে ৪২তম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি শীর্ষ ২৫%-এর মধ্যে রয়েছে। তবে শীর্ষ থেকে অনেক দূরে। সত্যি বলতে কী যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ভালো করতে হবে। একই প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের স্থান রয়েছে ১৬২তম। আগের বছরের চেয়ে ১০ ধাপ অবনতি হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশের এতো কম স্কোর করার একটি কারণ হলো- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ওই ইনডেক্সেই বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর আইনের একটি। যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বলেছে, এই আইন সাংবাদিকদেরকে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশনের খসড়া ডিজিটাল-সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওভার দ্য টপ প্ল্যাটফরমের জন্য রেগুলেশন এবং খসড়া ডেটা সুরক্ষা আইন নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। যদিও কোনোটিই চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে আমাদের আশঙ্কা এতে এমন বিধান রয়েছে যা সাংবাদিকদের এবং ব্যক্তিগত মত প্রকাশে আগ্রহীদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।"

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্য দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হয় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া।

ব্রিটেনের ডেপুটি হাইকমিশনার জাবেদ প্যাটেল বলেন, "বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে আরও বেশি তথ্য পেতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ ওই নির্বাচনের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।" ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তার দেশের উদ্বেগের কথাও জানান জাবেদ প্যাটেল।

কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলাস বলেন, "ভুয়া তথ্য যাতে না ছড়ায় সেদিকে সাংবাদিকদের নজর দিতে হবে।" সেইসাথে তিনি গণমাধ্যমে বহুত্ববাদীতার উপর জোর দেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে গণমাধ্যমের বিকাশও অপরিহার্য। নির্ভয়ে সংবাদ প্রচারকে জাপান সব সময় সমর্থন করে।"

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার নানামুখী চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বলেন, "১৯৬২ সনে ছাত্র অবস্থায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই সময় অন্যান্য দাবির মধ্যে একটি ছিল বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রেস ফ্রিডম। ৬০ বছর পর একই দাবি করে যাচ্ছি।" অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতৃবন্দ এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

XS
SM
MD
LG