অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ৩৪ জেলে নিখোঁজ


পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ৩৪ জেলে নিখোঁজ

বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অন্তত ১৬০ জন জেলেসহ ১১টি মাছধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনও ৩৪ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে, ট্রলারডুবির এই ঘটনাগুলো ঘটে।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন; এফবি রফিক মিঝি ট্রলারের মালিক রফিক মিঝি (৬০) এবং মোহাম্মদ-৩ ট্রলারের জেলে বাবুল (৩৫)।

ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলো মধ্যে এমবি মা-মনি-৩, এফবি সাইফুল, এফবি আল মামুন, এফবি কুলসুম, এফবি রফিক মিঝি, এফবি নুরবানু ও এফবি মায়ের দোয়া রয়েছে। এছাড়া ভোলার চরফ্যাশনের একটি, গলাচিপার পানপট্রির একটি, কলাপাড়ার লালুয়ার একটি ও বরগুনার নাপিতা এলাকার একটি ট্রলার রয়েছে। এগুলোর কোন নাম নেই।

আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, “নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন ও আলীপুর মৎস্য বন্দর এলাকায়।”

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, “সাগরের অস্বাভাবিক ঢেউ এবং ঝড়ের কবলে পরে তাদের ট্রলারগুলো ডুবে যায়। এসময় পাশে থাকা অন্য ট্রলারের মাধ্যমে অন্তত ১২৬ জেলে উদ্ধার হলেও, ৩৪ জন নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে, ১৪ জন এফবি কুলসুম ট্রলারের জেলে, ১৮ জন এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে, এফবি রফিক মিঝি ট্রলারের একজন ও মোহাম্মদ-৩ ট্রলারের একজন জেলে রয়েছেন।”

উদ্ধার করা জেলেরা কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাপাতাল ও মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিজামপুর কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সেলিম মন্ডল জানান, “সাগরে বেশ কয়েকটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের টহল টিম সাগরে রয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

কক্সবাজারে নিখোঁজ ১১ জেলে, উদ্ধার ৮

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার নাজিরারটেক চ্যানেলে ফিশিং ট্রলারডুবির ঘটনায় ১১ জেলে নিখোঁজ এবং আট জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সাগর থেকে ফেরার পথে উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে খুরুশকুলের জাকির হোসেনের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া ফিশিং ট্রলাটি ১৯ জন জেলে নিয়ে ডুবে যায়।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, “বোট ডুবির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় নামে কোস্টগার্ড সদস্যরা। এসময় আট জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১১ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানে আলম পুতু জানান, “আবহাওয়া খারাপ হলে ফিশিং ট্রলারগুলো কূলে ফিরে আসা শুরু করে। শুক্রবারও ফিরে আসার পথে কয়েকটি বোট দুঘর্টনার শিকার হয়।”

আজমির ফিশিংয়ের মালিক মো.শওকত ওসমান ফারুক বলেন, “ভরা মৌসুমে আবহাওয়া খারাপ থাকায় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তার মধ্যে তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দুঃশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

XS
SM
MD
LG