অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের আগামী ভোটের সঙ্গে শেখ হাসিনার সফরকে লিঙ্ক করা যাবে নাঃ পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী


ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের মাইলস্টোন বলে মনে করছেন ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দিল্লিতে বিদেশনীতি নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন একটি রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরকে বাংলাদেশের নির্বাচনের সঙ্গে 'লিঙ্ক' করা যাবে না। ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নঈম নিজাম।

ভয়েস অফ আমেরিকা: শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন সার্বিকভাবে?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক পরীক্ষিত। দুই দেশের সরকার প্রধানদের সফর...এটা দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসছে। নতুন কিছু বলা যাবে না। সর্বশেষ কোভিডের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকা সফর করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সেই সফরে তিনি অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিলেন। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের এ ধরনের সফরের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা আরও প্রসারিত হয়। পরস্পর বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের সুযোগ পায়। যার প্রভাব পুরোপুরিভাবে জনগণের ওপরও পড়ে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরকে ঘিরে কিছু মিডিয়ায়, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যম প্রচারণা ছিল যে এই সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ এক বছর পর ভোট অনুষ্ঠানের কাজ শুরু হবে। আপনার মতামত কী?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী: শেখ হাসিনার এ সফরকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের সঙ্গে লিঙ্ক করা যাবে না। এ ধরনের প্রচারণা কিছু মানুষ করছে বলে শুনেছি, এসব করা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে অপ্রস্তুত করতে। বাংলাদেশের ভোট তাদের দেশের নিজস্ব বিষয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো কথা বলা উচিত নয়। আর তাছাড়া অন্য কোনো দেশের মাথা ঘামানোরও কিছু নেই।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেন। দীর্ঘদিন এখানে ছিলেন। আপনার কাছে কী মনে হয় এই সফরের ভিতরে অনেক কিছু সমাধানের বার্তা ছিল?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী: আমি আগেই বলেছি, এ সফরে সম্পর্ক উন্নয়নে আরেক ধাপ এগোলো বাংলাদেশ ও ভারত। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নতুন সাতটি চুক্তি হয়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরের অঙ্গীকার। সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশকে ট্রানজিট সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ প্রস্তাব গৃহীত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ভারতের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে নেওয়া যাবে। এর জন্য বাংলাদেশকে কোনো শুল্ক ফি দিতে হবে না। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও ট্রানজিট সুবিধায় মতৈক্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে একমত হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় শিল্পপতিরা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন। কথা বলেছেন। অনেকগুলো ভালো দিক উঠে এসেছে এ সফরের ভিতর দিয়ে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: তিস্তা চুক্তির জন্য বাংলাদেশ আবারও অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কীভাবে দেখেন?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী: বিরাজমান সংকটগুলো উভয় দেশকে দূর করতে হবে একমত হয়ে। বাংলাদেশ তিস্তার পানি চেয়েছে। ভারত আগ্রহ দেখিয়েছে ফেনী নদীর বিষয়ে। আগামী দিনের আলোচনায় সমাধানের পথ বের হতে পারে। বাংলাদেশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চেয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনায় সম্মত হয়েছে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সইয়ের। যা খুবই ইতিবাচক। আমি বলতে চাই, ছোট-বড় মিলিয়ে করা এ চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ, এর মধ্যে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। আমলারা অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে, সংকট তৈরি করে। এখন এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে। এখনকার বাস্তবতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যুরোক্রেসি করলে তো আর কিছু হবে না। আগে থেকে চুক্তি করা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দরকার আগে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: ভারতের নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশরে রূপকল্প বাস্তবায়নে ভারত-বাংলাদেশ কদমে কদমে (পায়ে পা মিলিয়ে) চলবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিপদে সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে। আগামী দিনে আপনি কতটা আশাবাদী?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী: আশাবাদী অবশ্যই। বিশ্বাস করি এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বাড়বে। আরও এগিয়ে যাবে অনেক দূর। এবার একটা মাইলস্টোন তৈরি হয়েছে। সেই মাইলস্টোনকে ধরে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে দায়িত্ব সবারই রয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যতেও আশার আলো দেখেছি।

XS
SM
MD
LG