অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

করতোয়ায় নৌকাডুবি: প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি


বোদা শহরের কাছে নৌকা ডুবির পর করতোয়া নদীর তীরে লোকজনের ভিড়। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২। (ছবি-ফিরোজ আল সাবাহ/এএফপি)

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায়, করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রবিবার (২ অক্টোবর) রাতে তদন্ত দলের প্রধান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলামের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সোমবার (৩ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম প্রতিবেদন জমা হয়েছে বলে জানান।

তবে, সংবাদদাতার তদন্ত প্রতিবেদনের কপি চাইলে জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, “আপনাদের (সাংবাদিকদের) দেওয়া যাবে না, এটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনার জন্য যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো; খেয়াঘাটের ইজারাদারে অবহেলা, মাঝির অদক্ষতা, ধর্মীয় অনুভূতি, এবং জনসাধারণের সচেতনতা।” এসব কারণ উল্লেখ করে ১১৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় জানান, “এলাকার ভৌগলিক পরিস্থিতি এবং নদী কেন্দ্রীক জীবন জীবিকার ধরণ উল্লেখ করে ১১৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়-দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম আরও জানান, “প্রতিবেদনটি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত টিম কাজ করছে। তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বধেশ্বরী মন্দির কমিটির সভাপতি নীতিশ কুমার বকশী ওরফে মুকুল বকশী জানান, “অনুষ্ঠানের আগে ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সকলকে ৬টি নৌকা ঘাটে রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইজারাদার তা করেননি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও বাকি নৌকাগুলো না আসায় এক নৌকাতে উঠেই পার হওয়ার চেষ্টা করেন পুণ্যার্থীরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘাটে সজাগ থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”

ঘাটে উপস্থিত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের আরও কঠোরভাবে যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ না করায়, তাদের সমালোচনা করেন নিতিশ কুমার।

XS
SM
MD
LG