অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মুন্সীগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ


মুন্সীগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবদল নেতাকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদলের এক নেতাকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) উপজেলার বেশনালে এ ঘটনা ঘটে।

আহত জিয়া সরকার (৪৫) যুবদলের মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের জেদ্দাল সরকারের ছেলে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরজাবাদে তিনি ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

আহত জিয়া সরকারের বড় ভাই বাবুল সরকার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা শিপন পাটোয়ারী ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে যুবলীগের লোকজন জিয়াকে চেয়ারম্যান রিপনের বাড়ির কাছে আমঘাটা এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁর পায়ে গুলি এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে”।

পুলিশ ও জিয়া সরকারের স্বজনেরা জানায়, মঙ্গলবার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেশনাল থেকে তাঁকে তুলে এনে পায়ে গুলি এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আমঘাটায় ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় মোল্লাকান্দিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “কে বা কারা কুপিয়েছে জানি না। তবে আমার ভাই এর সঙ্গে জড়িত না। তা ছাড়া যাকে কুপিয়েছে সে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। সে মুক্তারপুর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত”।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সৈবাল বসাক বলেন, “আহতের (জিয়া সরকার) শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এছাড়া তাঁর পায়ে দুটি গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহত জিয়াকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে”।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে”।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা তথ্য পেয়েছি, ওই ব্যক্তিকে ডিবি পরিচয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে। ওই ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপানোর চিহ্ন মিলেছে। পায়ে থেতলানো অংশে, কোপ হতে পারে আবার গুলিও হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে”।

XS
SM
MD
LG