রাজধানীর ঢাকার বেইলি রোডে একটি বহুতল ভবনে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরও ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া ইউএনবিকে ৩৯ জনের মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বহুতল ওই ভবনের দোতলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওই ভবনটি সাত তলা। উপরের তলাগুলোতেও রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছিল।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার শাহজাদী সুলতানা জানান, আগুন লাগার দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের গুদাম পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, রাত ৯টা ৫০ মিনিটে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে বিভিন্ন স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন পরে বলেন, ভবনটিতে মাত্র একটি দোকান ছিল। বাকি সব রেস্টুরেন্ট। ভবনজুড়ে গ্যাস সিলিন্ডার পড়ে ছিল। এগুলোর যেকোনো একটি বা গ্যাসের চুলা বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের কারণ হতে পারে।
তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।