সোমবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল-গণঅবস্থান, মঙ্গলবার ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের এক দফা দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।
রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নিহতদের স্মরণে সোমবার সারাদেশে শহীদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করবে তারা।
শাহবাগ মোড়ে বেলা ১১টায় শ্রমিক সমাবেশ এবং বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (৬ জুলাই) 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ডাক দেন এবং তাদের কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, নাগরিক ও শ্রমিকদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া 'ছাড়তে হবে ক্ষমতা, ঢাকাই আস জনতা' স্লোগানে এ দিন দুপুর ২টায় শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে সব এলাকা, গ্রাম, উপজেলা ও জেলায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি করে 'সংগ্রাম কমিটি' গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)
মৃতের সংখ্যা
প্রথম আলো তাদের রবিবারের (৪ আগস্ট) অনলাইন সংস্করণে বলছে, রবিবারের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৭২।
এএফপি তাদের রবিবারের প্রতিবেদনে বলছে, রবিবার অন্তত ৫০ জন মারা গেছে।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলছে, অন্তত ২৭ জন মারা গেছে। এ সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র কামরুল আহসান বলেছেন, নিহতদের মধ্যে "কমপক্ষে ১৪ জন পুলিশ সদস্য" এবং আরও ৩০০ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
সোমবার থেকে ৩ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
রবিবার এক নির্বাহী আদেশে সোমবার, মঙ্গলবাল ও বুধবার তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তবে জরুরি পরিষেবা যেমন- হাসপাতাল, ওষুধ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য সেবা এর আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে সরকার এক নির্বাহী আদেশে ২১, ২২ ও ২৩ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে তা আরও একদিন বাড়িয়ে করা হয় ২৪ জুলাই পর্যন্ত।
(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গুলিতে নিহত ২ জন
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ধারাবহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন; ধারাবাহর গ্রামের মো. মকবুল আলীর ছেলে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিন (৪৩) ও উপজেলার শিলঘাটের বাসিন্দা সানি আহমদ (১৮)। গুলিতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিন আহমদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের সামনে ছাত্র-জনতা সমবেত হয় এবং সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিন শুরু করে। এসময় তাদের সরিয়ে দিতে চায় পুলিশ।
একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ শুরু হয়। বিভিন্ন মসজিদে ঘোষণা দিয়ে এসময় এলাকাবাসীও সংঘর্ষে জড়িত হয় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ছাত্র-জনতা, পুলিশ-বিজিবির দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে এবং পুলিশ-বিজিবি গুলি, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সংঘর্ষ গোলাপগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার দিকে পৌর এলাকার ধারাবহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কিছু মানুষ সমবেত হয়। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাজ উদ্দিন ও সানি আহমদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)