বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে: চীন
চীন আশা প্রকাশ করেছে, "বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।"
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বেইজিং-এ বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং কৌশলগত সহযোগী হিসাবে চীন আন্তরিকভাবে আশা করে বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
(এই প্রতিবেদনের তথ্য এএফপি থেকে নেয়া হয়েছে।)
জরুরি নয় এমন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সরকার মঙ্গলবার বলেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর সতর্কতা হিসাবে তারা বাংলাদেশ থেকে খুব জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অতি জরুরি নয় এমন সব কূটনীতিক এবং কর্মীদের পরিবারসহ সোমবার থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সীমিত আকারে চালু আছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অশান্ত পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসের আশংকায় বাংলাদেশে না যেতে সতর্ক করেছিল এবং তা এখনও সেই সতর্কতা বলবত আছে।
শ্রীলংকায় হাসিনার পতনকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশার পতনের মত করে দেখা হচ্ছে
২০২২ সালে আন্দোলনের মুখে সে দেশের নেতার পতন ঘটেছিল যেভাবে বাংলাদেশে হাসিনার পতনকে শ্রীলংকায় সেইভাবে দেখা হচ্ছে।
শ্রীলংকা মঙ্গলবার বলেছে, তারা আশা করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরবে।
কলম্বোতে সরকারের মুখপাত্র বান্ডুলা গুনাওয়ারদানা সাংবাদিকদের বলেন, "আমরাও আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একইরকম বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম"।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে উভয় দেশের জন্য আগামীতে শান্তি এবং উন্নতি কামনা করেন।
২০২২ সালের জুলাই মাসে শ্রীলংকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশা দেশত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজাপাকশার সরকারি বাসভবনে লুটপাটের ছবির পাশে সোমবার হাসিনার বাসভবনে হামলার ছবি পোস্ট করেছেন অনেকে।
(এই রিপোর্টের তথ্য এএফপি থেকে নেয়া হয়েছে।)
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ গ্রহণ করার জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর আহ্বান
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষর উচিত হবে সজাগ থাকা এবং শেখ হাসিনার সমর্থকদের উপর সহিংস প্রতিশোধসহ যেকোনো আইন ভঙ্গ থামানো।
এইচআরডব্লিউ বলে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পরেই কিছু বাংলাদেশি ভাংচুরে লিপ্ত হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সদস্যদের উপর হামলা করে।
“বাংলাদেশিরা মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিবাদ করেছে, তাদের অনেকে মারা গেছে,” বলেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। “অতীতের পুনরাবৃত্তি করে দেশের ভবিষ্যৎ যাতে বিসর্জন না দেয়া হয়, সেজন্য প্রভাবশালী সরকারদের সাহায্য জরুরী।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলে সকল রাজবন্দীদের অনতিবিলম্বে ছেড়ে দেয়া উচিত এবং কর্তৃপক্ষের উচিত একটি স্বচ্ছ এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা তৈরিকে অগ্রাধিকার দেয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময়সহ শেখ হাসিনা সরকারের আগের সময়ের লঙ্ঘনের উপর স্বাধীন তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে জাতিসংঘের সাহায্য গ্রহণ করা।
“প্রায় ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ বাংলাদেশে জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য নতুন আশা সৃষ্টি করেছে,” গাঙ্গুলি বলেন।
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে আইনের শাসনের দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার এই সুযোগ গ্রহণ করা।”