ভিডিওঃ চট্টগ্রামে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিক্ষোভ
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের আহবানে, চট্টগ্রামে,পুলিশের বাধা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শুক্রবার (২ আগস্ট) বৃষ্টি উপেক্ষা করে, নগরীর আন্দরকিল্লা চত্বর থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিছিল শুরু করেন।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, “আমাদের ভাইদের হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। হত্যা, গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলা দিয়ে এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে, তার পুরো পরিবারসহ শত শত শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।”
আন্দোলন ঘিরে আন্দরকিল্লা মোড়সহ চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। পুলিশ প্রথমদিকে মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও, শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে পিছু হটে।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রামের অন্যতম সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রার্থনা ও ছাত্র জনতার গণমিছিল কর্মসূচির ডাক দেন।
তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী পলক
দেশজুড়ে কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে ব্যর্থতা এবং ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার দায়ভার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে শুক্রবার (২ আগস্ট) ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ডাক, টেলিযোগযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শুক্রবার নাটোরে নিজ বাসভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "তরুণ প্রজন্মের কাছে যদি আমার কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়া দায় আমি নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।"
সরকারের সাথের শিক্ষার্থিদের দূরত্ব তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এটা কখনোই তাদের প্রতি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করতে হবে। কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে শাসনের পথ বেছে না নিয়ে আমরা যদি তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল হই, স্নেহ–মমতা নিয়ে তাঁদের কাছে বসি, তাঁদের কথা শুনি, তাহলে আমাদের বিশ্বাস, অবশ্যই এই ভুল–বোঝাবুঝির দূরত্ব দূর হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারের সঙ্গে যে চেষ্টা করছে, তা সফল হবে না।"
চলমান অস্থিরতার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি শুনতে চান।
শনিবার(৩ জুলাই) বিকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তাদের জন্য গণভবনের দরজা সব সময় খোলা। আমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসতে চাই। আমি তাদের কথা শুনতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে নতুন পেনশন স্কিম প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তা থেকে তাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
(এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)
সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী নন আন্দোলনকারীরা
সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
শনিবার (৩ আগস্ট) আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখছেন, "তাদের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তাদের কোন বক্তব্য থাকলে দেশবাসীর সামনেই মিডিয়া মারফত তা রাখতে পারেন। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।...গুলি আর সন্ত্রাসের সাথে কোন সংলাপ হয় না।"