অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পরীমনি মুক্ত, রিমান্ডে নেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আদালত


চিত্রনায়িকা পরিমনি

নায়িকা পরিমনি জেল থেকে মুক্তি পেলেন। ২৭ দিন ছিলেন জেলে। এর মধ্যে সাত দিন রিমান্ডে। বুধবার সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে জামিনের কাগজপত্র পৌঁছানোর পরই কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেন। মুক্তি পাবার পর হুড খোলা একটি গাড়িতে উঠেন পরীমনি।

ভোর থেকেই কারা ফটকে মানুষের জটলা। শত শত মানুষ কারাগারের আশেপাশে জড়ো হন। জেলে আর রিমান্ডে থাকার কষ্ট পরীমনির চোখে-মুখে ছিল না। বরং সারাক্ষণ মুখে ছিল হাসি। হাত নেড়ে ভক্তদের অভিনন্দন জানান। হাত নেড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভক্তদের প্রতি। এ সময় তার তালুতে মেহেদি দিয়ে লেখা চারটি শব্দ সবার নজর কাড়ে। ইংরেজিতে লেখা ‘Don’t love me bitch’। আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ‘আমাকে ভালবেসো না কুকুর’।

এই শব্দগুলো নিয়ে তখনই শুরু হয়ে যায় নানা জল্পনা-কল্পনা। এগুলো লিখে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? নিজের কষ্টের কথা! নাকি তিনি অভিমান প্রকাশ করেছেন। তার অবশ্য অভিমান হবারই কথা। একদিন যারা তার চারপাশে ঘুরঘুর করতেন। কারাগারে যাবার পর তারা বদলে যান। গালমন্দ করতে থাকেন। কলঙ্কের তকমা লাগিয়ে দেন গায়ে। এতেই কি তিনি লিখেছেন, আমাকে ভালোবেসো না...।

দুপুরে বাসায় ফিরে পরীমনি তার হাতে লেখা বার্তার একটি ব্যাখ্যা দেন। এতে তিনি বলেন, যারা বিচ তাঁদের উদ্দেশ্যে এমন কথা লিখেছি। লেখাটা পড়ে যাঁদের মনে হবে, আমাকে নিয়ে এটা লিখল-তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই লেখা। ওদের তালিকা তো আমি নাম ধরে বলতে পারব না। আমাকে আটক, গ্রেপ্তার এবং কারাগারের নিয়ে যাওয়ার পর তাদের জীবন সার্থক মনে হয়েছে। কেউ কেউ তো খুশিতে নাচাও শুরু করেছে। যেই আমি ফিরে আসছি, অনেকে আবার মিস ইউ, লাভ ইউ বলা শুরু করছে। এই ধরনের ভালোবাসা আমার দরকার নেই। আমি তাদেরকেই বলেছি।

মাদক মামলায় জেলে যাওয়ার পর তার প্রিয় সংগঠন শিল্পী সমিতি অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাকে শাস্তি দিয়ে বসে। সদস্যপদ স্থগিত করে দেয়। এ নিয়েও তার মনে কষ্ট। সহকর্মী শিল্পীরাও তার পাশে দাঁড়াননি। তার চেনা নেই, জানা নেই- এমনসব মানুষই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। যোগ দিয়েছেন মানববন্ধনে। পত্রিকায় দিয়েছেন বিবৃতি। বিশেষ কলাম লিখেছেন স্বনামখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা। স্যোশাল মিডিয়ায়তো বিরামহীন প্রচারণা ছিল তার পক্ষে। আইনজীবীরা ঝুঁকি নিয়ে তার পক্ষে লড়াই করেছেন। লন্ডন প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী আইনজীবী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পাঠাতে হয়নি। ঢাকার বেশ কয়েকজন আইনজীবী পরীমনির পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নিতে রাজি হন।

তিন দফায় তাকে ৭ দিন রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা যায় উচ্চ আদালতে। প্রশ্ন ওঠে রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা কি? বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার বলেন, রিমান্ড এতো সহজ বিষয় নয়। এটা অতি ব্যতিক্রমী একটি বিষয়। ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশ্যে বিচারকরা বলেন, রিমান্ডের কোনো উপাদান নেই। "তদন্ত কর্মকর্তা বললেন আর আপনি রিমান্ড মঞ্জুর করে দিলেন। এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না।" ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। নিম্ন আদালতে যখন জামিন প্রশ্নে কোনো সুরাহা হচ্ছিল না তখনই পরীমনির আইনজীবীরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনাতেই শেষ পর্যন্ত তার জামিন হয়।

সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না বুধবার আদালতের শুনানিতে বলেন, রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অথচ তা মানা হচ্ছে না। পরীমনির বেলায়ও তা মানা হয়নি। এ নিয়ে যুক্তিতর্কের মধ্যে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান। তখনই ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল আবু এহিয়া বলেন, পরীমনিকে তিন দফা রিমান্ডে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না।

উল্লেখ্য যে, মুক্ত পরীমনি আপাতত কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। কোনো কথা বলবেন না। জানালেন তার আইনজীবী। সেপ্টেম্বরের কোনো এক সময়ে পরীমনি শুটিংয়ে অংশ নেবেন এমনটাই জানা গেল।

XS
SM
MD
LG