অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে ভারতের ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ


বাংলাদেশে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫টি নির্দেশনা জারি করেছে।

ভারত কয়েকটি দেশে ওমিক্রন সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় আছে বৃটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ইসরাইল। তালিকায় থাকা দেশগুলো থেকে ভারতে যাওয়া বা এসব দেশে ট্রানজিটে অবস্থান করা ভ্রমণকারীদের জন্য আরটি-পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পরই ভ্রমণকারীরা বিমানবন্দর ছাড়তে পারবেন। অন্য কোনো কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার আগেও পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হতে হবে বলে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশেও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫টি নির্দেশনা জারি করেছে। গত রোববার রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত অন্যান্য আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। রেস্তরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে। সব ধরনের জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল, থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে। মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত দেশসমূহ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা উপসর্গ, লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজেটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনা সারা দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাগুলো কীভাবে প্রতিপালন হবে তা চূড়ান্ত করা এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

ওমিক্রন ঝুঁকি দেখা দেয়ার পর গত রোববার জাতীয় কারিগরি কমিটি এই বিষয়ে জরুরি সভা করে প্রাথমিক পর্যায়ে চারটি সুপারিশ দিয়েছে। যে সমস্ত দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সে সমস্ত দেশের যাত্রী আগমন বন্ধ করা, কোনো ব্যক্তির আক্রান্ত দেশ ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলেছে জাতীয় কমিটি। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাবেশে জনসমাগম সীমিত করা এবং করোনা পরীক্ষায় জনগণকে আরও উৎসাহিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কমিটির তরফে।

XS
SM
MD
LG