অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে - গবেষণা প্রতিবেদন


করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর স্কুল খুলেছে বাংলাদেশে। ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে ক্লাসে যাচ্ছে- ফাইল ফটো- এপি

করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২১ সালের মার্চ মাসের চেয়ে আগস্ট মাসে বেড়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সোমবার প্রকাশিত পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার বা পিপিআরসি এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা বিআইজিডি-র এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত আগস্ট মাসে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে দেশে ৭৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে ।

গবেষণা প্রতিবেদনের ভার্চুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান জানান শিখন ঝুঁকিতে থাকা এই বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৯ লাখ ৬৯ হাজার এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৯ লাখ যা দেশের মোট প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ২২ শতাংশ ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ৩০ শতাংশ।

এর আগে এ বছরের মার্চ মাসে পিপিআরসি এবং বিআইজিডির করা অনুরূপ আরেকটি যৌথ গবেষণার কথা উল্লেখ করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগস্টের গবেষণায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্চের জরিপে দেখা গেছে প্রায় ১ বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কমপক্ষে ৫৯ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী শিখন ঘাটতির ঝুঁকিতে ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন এদের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ৩৪ লাখ ২০ হাজার এবং ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ২৫ লাখ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি, মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা সৃষ্টি হওয়ার কারণে শিখন ঘাটতির ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানিয়েছেন করোনার ঝুঁকির কারনে এবছরও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে নিজ নিজ স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের ষষ্ঠ শ্রেনীতে উন্নীত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

XS
SM
MD
LG