অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকার সড়কে নিজের বাইকে আগুন দিলেন ক্ষুব্ধ বাইকার


নিজের বাইকে আগুন দিলেন বাইকার শওকত আলী

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি স্যানিটারি পণ্যের দোকান ছিল শওকত আলীর। ওই দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন তিনি।করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন শওকত। এরপর জীবিকা নির্বাহ করতে ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালানো শুরু করেন। জঞ্জালে ভরা ঢাকার সড়কে দিনভর বাইক চালানো অনেকটা কষ্টকর কাজ। এরমধ্যে ট্রাফিক আইন অমান্য করারকারণে যখন তখন মামলা-জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

শওকত আলীও বেশ কয়েকবার এমন মামলা-জরিমানার মুখে পড়েন। সোমবারসকালে ট্রাফিক সার্জেন্ট যখন তার বাইক আটকে নতুন করে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেননিশওকত। রাগে, ক্ষোভে নিজের উপার্জনের মাধ্যম মোটরবাইকটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। সবার সামনে আগুনে পুড়ে যায় বাইকটি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। আসতে থাকে নানাধরণের প্রতিক্রিয়া। এ ঘটনার প্রতিবাদে অ্যাপ- বেইজড ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ (ডিআরডিইউ) মঙ্গলবার কর্মবিরতির ডাকদিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা লিংক রোডে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন শওকত। ওইসময় ব্যস্ত সড়কের পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ট্রাফিক সার্জেন্ট তার কাগজপত্র নিয়ে যান। আগেও মামলা দেয়াহয়েছে এই তথ্য জানিয়ে নতুন করে আর মামলা না দেয়ার অনুরোধ করেন শওকত। অনুরোধে ট্রাফিক কর্মকর্তার সাড়া না পেয়ে রাগ-ক্ষোভে নিজের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেয়ার পর কেউ একজন তা নেভানোরচেষ্টা করেন। কিন্তু শওকত তাকে বাধা দিচ্ছিলেন। আগুনে মোটরবাইকটি ভস্মিভুত হয়ে যায়। পরে পুলিশ পুড়ে যাওয়া বাইকসহশওকতকে বাড্ডা থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিজের বাইকে কেন আগুন ধরিয়ে দিলেন, উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শওকত বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ট্রাফিকপুলিশ মামলা দিতে চেয়েছিল। আমি অনুরোধ করেছিলাম, গত সপ্তাহেও মামলা দেয়া হয়েছে, আর মামলা দিয়েন না। তারপরও মামলাদিতে চেয়েছিল। তখন আমি বলেছি- মামলা দেন, আমি আর গাড়ি চালাবো না। তাই পুড়িয়ে দিয়েছি।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেটি ব্যস্ত এলাকা। সেখানেযাতে কোনো বাইক রাউডার দাঁড়াতে না পারে সে নির্দেশনা আগে থেকেই দেয়া ছিল। শওকত সেখানে দাঁড়ানোয় দায়িত্বরত কর্মকর্তামামলা দিতে চেয়েছিলেন। মামলা দেয়ার আগেই তিনি তার মোটরবাইকটি পুড়িয়ে দেন।

ওদিকে শওকত আলীর বাইক পুড়িয়ে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিজেদের দাবি দাওয়া সামনে এনেকর্ম বিরতির ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপ-বেইজড ড্রাইভারস ইউনিয়ন অব বাংলাদেশ (ডিআরডিইউ)। ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালনকরা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ।

তিনি বলেন, বাড্ডার ঘটনাটি অমানবিক। হয়রানির জন্যএকজন চালক তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনাও যদি পুলিশকে নাড়া না দেয়, তাহলে কি আত্মাহুতিদিলে তাদের বিবেক নাড়া দেবে? তিনি বলেন, এর আগেও আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। এবার ষষ্ঠবারের মতো আন্দোলনেযাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবো।

শওকত আলীর বাইক পুড়িয়ে দেয়ার ভিডিও দেখে তার প্রতি অনেকে সমবেদনা জানিয়েছেন। কেউ কেউ তাকে নতুন বাইক কিনেদেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে শওকত আলী জানিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG