অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দুর্বল দেশগুলোকে গণতন্ত্র সম্মেলনে ডাকার কারণে তালিকায় বাংলাদেশের নাম নাই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন 


বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোকে গণতন্ত্র সম্মেলনে ডেকেছে যে কারণে আমন্ত্রিতদের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নাই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রিতদের যে তালিকা পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের নাম না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্থিতিশীল আছে বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলে্‌ন, দেশে বর্তমানে একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আব্দুল মোমেন প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন সেখানে অনেকগুলো লোককে ভোট দিতে দেয়া হয় নাই।আফগানিস্তানেও একই অবস্থা ঘটছে। এদিক থেকে বাংলাদেশ অনেক অগ্রসর বলে তিনি মন্তব্য করেন । যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গণতন্ত্র শেখার কিছু নাই বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে সমস্ত দেশ গণতন্ত্রের দিক থেকে দুর্বল তাঁদেরকে হয়তো গণতন্ত্র সম্মেলনে ডাকা হয়েছে। তারা দুই পর্বে এই সম্মেলন করবে বলেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন প্রথমে কয়েকটি দেশকে যারা গণতান্ত্রিক দিক থেকে খুবই দুর্বল তাদের ডাকা হয়েছে। বাংলাদেশকে তারা বাদ দেয়া হয়েছে সেটা বলা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেণ। তিনি বলেন, হয়তো পরে তারা বাংলাদেশেকেও বলবে। এটা নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই, এটা তাদের দায়দায়িত্ব।

অন্যের পরামর্শে আমরা কাজ করি না। আমরা মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করি বলে আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেন ।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া ১১০টি দেশের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশের নাম নাই। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং মালদ্বীপের নাম থাকলেও আগামী ৯ ও ১০ই ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রিতদের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার যে চারটি দেশ বাদ পড়েছে সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং ভুটান।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউস বলেছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এর মধ্যে প্রথমটি হল কর্তৃত্বদের বিরুদ্ধে লড়াই, দ্বিতীয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং সর্বশেষ মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। বলা হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে প্রতিষ্ঠিত ও অপেক্ষাকৃত তরুণ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যেসকল দেশ অকৃত্রিম আগ্রহ প্রকাশ করবে, সেসব দেশের সাথে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন বাংলাদেশকে সামিটে কেন ডাকা হয় নাই তার ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রই দিতে পারবে। তিনি বলেন হয়ত তাঁরা যে বিষয়গুলোর ভিত্তিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার কোন ঘাটতি বাংলাদেশের রয়েছে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন পুরো বিষয়টা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক রাজনীতির সাথে জড়িত যেখানে এই উদ্যোগকে বলা যায় বিশ্বে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে কোণঠাসা করার একটা প্রচেষ্টা। এ কারণে বাংলাদেশকে এই সামিটে যে ডাকা হয় নাই তার ফলে দেশটির জন্য ভাল ফলই বয়ে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

XS
SM
MD
LG