অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পরিবহন ধর্মঘটে অচল বাংলাদেশ


বাস ডিপোতে সারিবদ্ধ করে রাখা বাস।

পরিবহন ধর্মঘটে চাপ পড়েছে জনজীবনে। সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে। সংকট দেখা দিয়েছে জরুরি পণ্য পরিবহনে। জরুরি চিকিৎসা সেবা কাজেও বিঘ্ন ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা ছিল শুক্রবার। অনেকেই কেন্দ্রে সময়মতো হাজির হতে পারেননি। দূরপাল্লার বাস চলেনি। শত শত যাত্রী বাস টার্মিনালে গিয়ে বাস না পেয়ে ফিরে গেছেন।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা শুক্রবার সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। বুধবার মধ্যরাতে ডিজেল ও কেরোসিনে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়।দেশে মোট জ্বালানির মধ্যে ডিজেলই ব্যবহার হয় ৭৩ শতাংশ।

বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন এবং গণপরিবহনে অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে আমদানি করা জিনিসপত্রের উপরেও। কৃষি, সেচ, সার এবং বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচও বৃদ্ধি পাবে। মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে। যে কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা চাপের মধ্যে পড়বেন। করোনায় অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে অনেকেই চাকরি ফেরত পাবেন তেমনটা মনে হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতি ও ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় বেশি ডলার খরচ করে তেল আনতে হবে। এর ফলে চাপ বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, "ধর্মঘটে জনভোগান্তি বেড়েছে।" এই ভোগান্তি অবসানের লক্ষ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, "আগামী রবিবার বিআরটিএ'র ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির এক বৈঠক ডাকা হয়েছে। সে বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।" মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টিও এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান। ধারণা করা হচ্ছে, রবিবারের আগে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টির সুরাহা হবে না।

ওদিকে এই ধর্মঘটের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না মালিক সমিতির অনেকেই। বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেছেন, "দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলে সমিতি কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। মালিকরা বাস না চালালে আমাদের আর কি করার আছে?"

বাংলাদেশ ট্রাক মালিক ও শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেছেন, "ডিজেলের দাম না কমা পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলবে না।"

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেছেন, "সমিতি কোনো ধর্মঘট ডাকেনি। মালিকরাই বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"

XS
SM
MD
LG