অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মালালার বিয়ে নিয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া


নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে স্বামী অ্যাসারের বিয়ের কাবিনে সই করছেন। ৯ নভেম্বর, ২০২১।(টুইটার/মালালা ইউসুফজাই)

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের বিয়ে নিয়ে অন্তহীন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্ক চলছে বিয়ের পক্ষে-বিপক্ষে।

প্রশ্ন উঠেছে, কেন তিনি চারমাসের মাথায় তার নিজের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিলেন। অনেকে আবার বলছেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও মালালা এ নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

নারীবাদীদের সমালোচনার মুখে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ব্রিটেনের ভোগ ম্যাগাজিনকে বলেছেন, তিনি বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন না। তার আপত্তি ছিল বিশ্বের অনেক স্থানে বিয়ে নিয়ে যেসব আইন রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের উত্তরে বেড়ে ওঠা মেয়েদেরকে শেখানো হয়- বিয়ে একটি স্বাধীন জীবনের বিকল্প। নিজের বিয়ের পক্ষ সমর্থন করে বলেন, তার বিশ্বাস- বন্ধুত্ব, প্রেম এবং মমতা উপভোগ করতে পারবেন।

এসবের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদীদের অনেকে হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ২৭ বছর যাবৎ তিনি ভারতে নির্বাসিত। এক টুইটে তসলিমা লিখেছেন, মাত্র চারমাস আগে ব্রিটেনের ম্যাগাজিন ভোগকে মালালা বলেছিলেন, মানুষ কেন বিয়ে করে এটা তার কাছে বোধগম্য নয়। এটাও বলেছিলেন, আপনি কারও সঙ্গে থাকতে চান, থাকুন না। এজন্য কাগজপত্রে সই-সাবুদের কি প্রয়োজন? তসলিমার প্রশ্ন- মালালা কেন সিদ্ধান্ত বদল করলেন? মালালা কি জানেন না সারা বিশ্বের অনেক তরুণীর জন্য তিনি একজন আইকন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করে তিনি একটি ভুল বার্তা পাঠাচ্ছেন তাদের কাছে। তসলিমা বলেন, "এটা অবশ্যই পিতৃতান্ত্রিক উপমহাদেশে নারী অধিকার আদায় আন্দোলনের জন্য একটি চরম ধাক্কা। তার উচিত ছিল শিক্ষা আরও চালিয়ে যাওয়া। কারণ পাখতুন খোয়ার রক্ষণশীল সমাজ থেকে উঠে আসা অনেক মেধাবী মেয়েই অক্সফোর্ডের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না। তিনি অল্প বয়সে বিয়ে করার নিয়ম ভেঙে ফেলবেন এটাই আমার বিশ্বাস ছিল।"

লাহোর ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক নিডা কারমানি একজন নারীবাদী সমাজবিজ্ঞানী হিসাবে পরিচিত। তার মতে, "মালালা কাকে বিয়ে করলো আমার কাছে সেটা মুখ্য নয়। কিন্তু সমাজ মালালার বিয়েকে কীভাবে নিলো সেটা আমার কাছে বড় বিষয়। আমরা জানি বিয়ে কিন্তু সবার জন্য শুভকর নয়। দক্ষিণ এশিয়ার পিতৃতান্ত্রিক সমাজ প্রায়শই মহিলাদের পরবর্তী জীবনের পছন্দকে খুবই সীমিত করে দেয়। সেই পরিণতি যেন মালালার সঙ্গে না হয়।"

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট এনজিও-এর আইনি উপদেষ্টা রীমা ওমর ভিন্নমত দিয়েছেন। বলেছেন, বিয়ের সমালোচনা করার জন্য জায়গা থাকা উচিত। কারণ এর ফলে প্রায়শই নারীরা তাদের স্বাধীনতা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হারায়। মহিলাদের ওপর বিয়ে করার জন্য অনেক বেশি চাপ থাকে। এ ধরনের সমালোচনাকে একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্ত এবং বিয়ে করার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়। তসলিমা নাসরিন এরও জবাব দিয়েছেন অন্যভাবে। বলেছেন, মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে করা এবং সন্তান জন্মদানের মেশিনে পরিণত না হলে তিনি খুশি হতেন।

গত ৯ নভেম্বর ব্রিটেনের বার্মিংহামে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা আসের মালিককে বিয়ে করেন মালালা । এক টুইট বার্তায় নোবেলজয়ী মালালা নিজেই বিয়ের ছবি পোস্ট করে লেখেন- "এটা আমার জীবনের একটি মূল্যবান মুহূর্ত। আসের এবং আমি আজ থেকে আজীবনের জন্য সঙ্গী হলাম।"

২০১২ সালে স্কুলে যাওয়ার পথে এক জঙ্গি হামলার শিকার হন মালালা। এই হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান । শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নারী শিক্ষার বিস্তারে ভূমিকার জন্য ২০১৪ সনে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা।

XS
SM
MD
LG