অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রিতদের তালিকায় বাংলাদেশ নাই


হোয়াইট হাউসে আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ের সাউথ কোর্ট অডিটোরিয়ামে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।২৩ নভেম্বর ২০২১। (ছবি-রয়টার্স/এভেলিন হক্সটিন)

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভার্চুয়াল “সামিট ফর ডেমোক্রেসি” বা “গণতন্ত্র সম্মেলন” এ আমন্ত্রিতদের তালিকায় বাংলাদেশেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া ১১০টি দেশের যে তালিকা মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং মালদ্বীপের নাম রয়েছে। আগামী ৯ ও ১০ই ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রিতদের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার যে চারটি দেশ বাদ পড়েছে সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং ভুটান।

এ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে অংশ নেবে শুধু ইসরায়েল ও ইরাক। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসর, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় নাই ওই সম্মেলনে। সম্মেলনে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীনকে বাদ দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাইওয়ানকে। ইউরোপে মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পোল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের নেতৃত্বে থাকা হাঙ্গেরিকে। আফ্রিকার দেশ কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং নাইজারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বাইডেন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তার প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজনের অঙ্গীকার করেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউস বলেছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এর মধ্যে প্রথমটি হল কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই, দ্বিতীয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং সর্বশেষ মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।

গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রিত দেশগুলোর নেতারা গণতন্ত্র, ব্যক্তিগত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র গনতন্ত্রের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির কথাও বলবে। এক বছর পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি যাচাই করতে আরেকটি ফলোআপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেশগুলোর নেতাদের সশরীরে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন বাংলাদেশকে সামিটে কেন ডাকা হয় নাই তার ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রই দিতে পারবে। তিনি বলেন হয়ত তাঁরা যে বিষয়গুলোর ভিত্তিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার কোন ঘাটতি বাংলাদেশের রয়েছে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন পুরো বিষয়টা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক রাজনীতির সাথে জড়িত যেখানে এই উদ্যোগকে বলা যায় বিশ্বে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে কোণঠাসা করার একটা প্রচেষ্টা। এ কারণে বাংলাদেশকে এই সামিটে যে ডাকা হয় নাই তার ফলে দেশটির জন্য ভাল ফলই বয়ে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুল লাতিফ মাসুম এ প্রসঙ্গে বলেন একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণ নির্বাচন যে ভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হওয়ার কথা বাংলাদেশের গত কয়েকটি নির্বাচন সে ভাবে হয় নাই । সে কারণেই হয়ত বাইডেন সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দেয় নাই। এ স্বীকৃতি না দেওয়ার একটি ভাল দিক হচ্ছে দেশটি একটা চাপের মধ্যে থাকবে। তিনি বলেন এর খারাপ দিকটা হচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্বের মূল গণতান্ত্রিক বলয়ের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারলো না যা দেশটির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

XS
SM
MD
LG