অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনায় একদিনে শনাক্ত সাড়ে ১৫ হাজার–মৃত্যু ১৭


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন বাংলাদেশের মানুষেরা। (ছবি- এপি)

বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫ হাজার ৫২৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ২৭৩ জনে। এ ছাড়া মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জনে পৌঁছেছে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৪৯ হাজার ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই সময়ে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মোট পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৫২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার ছয়জন। এ ছাড়া, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৯ শতাংশ।

রাজশাহীতে করোনা শনাক্ত ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ

রাজশাহীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এবং রামেক হাসপাতাল আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় এই করোনা শনাক্ত হয়।

এক দিন আগে এই দুটি ল্যাবে রাজশাহীর ৫৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ নমুনায় করোনা ধরা পড়ে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে করোনা সংক্রমণে কোনো রোগী মারা যাননি। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, ১০৪ শয্যার রামেক করোনা ইউনিটে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৯ জন। এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৪৩ জন। বর্তমানে রাজশাহীর ২৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছয়জন, নওগাঁর তিনজন, নাটোরের দুজন, পাবনার তিনজন, কুষ্টিয়ার তিনজন, সিরাজগঞ্জের একজন, ঝিনাইদহের একজন এবং মেহেরপুরের একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতালে করোনা নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৩৪ জন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৩ জন। এক দিনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮ জন রোগী।

এদিকে গত মঙ্গলবার রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ১৭৯ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৭ জনের। একই দিনে রামেক ল্যাবে ৪৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৪০ জনের করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ৪০৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২৭ জনের করোনা ধরা পড়েছে। করোনা শনাক্তের হার ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাগঞ্জের ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। জয়পুরহাটের দুটি নমুনা পরীক্ষায় একজনের করোনা ধরা পড়েছে।

বাগেরহাটে শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশ

বাগেরহাটে গত ২৪ ঘন্টায় বাগেরহাটে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার শতকরা ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় ৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭ হাজার ২০৮ জন। আর এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ১৪৪ জন।

এদিকে বাগেরহাটে হাট-বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমহল এবং গণপরিবহনসহ সর্বত্রই নানাভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইছে না। হাট-বাজারসসহ সর্বত্রই মানুষ মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে বিধিনিষেধ জারি করা হলেও সেই নির্দেশনা মানার বালাই নেই। মাস্ক ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে মানুষের অজুহাতের শেষ নেই। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে জেলা প্রশাসন প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, করোনা সংক্রমণ রোধ করতে হলে অবশ্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

অন্যদিকে বাগেরহাটে করোনার ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বুধবার বাগেরহাট সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বুথগুলোতে ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। জেলার ৯টি উপজেলায় ২৪টি বুথে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন ১২ হাজারের উপরে মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত বাগেরহাট জেলায় ১১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৬ জনকে প্রথম ডোজ, ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪২ জনকে দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৩ হাজার ৩১১ জনকে বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়স্ক শিক্ষার্থীদের এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৬ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৬৭ হাজার ১৮৬ জনকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বাগেরহাটে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার শতকরা ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সংক্রমণ রোধ করতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। জেলায় ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় ডোজ ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বুস্টার ডোজ ১ দশমিক ৩২ শতাংশ দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে তিন দিনে করোনায় আক্রান্ত ৬৩০

নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তিন দিনে ৬৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ২০৪ জন ও সোমবার ২২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, “নারায়ণগঞ্জে গত তিন দিনে ছয় শতাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের লক্ষণ বিবেচনায় ডেলটার প্রভাব বেশি বলে আমরা ধারণা করছি। আর ওমিক্রনের প্রভাবও রয়েছে। তবে আশার কথা ওমিক্রনে মৃত্যুর হার অনেক কম। এ ধরনটি যেমন দ্রুত ছড়ায় তেমনি রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।”

বুধবার দুপুরে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সিনিয়র সিটিজেনদের ভ্যাকসিনের আওতায় এনেছি। আমাদের দুই লাখ ২৩ হাজার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ফাইজারের প্রথম ডোজ দিয়েছি। সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে এবং অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে চলাফেরা করতে হবে।”

গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে ৯৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭৩ জন, আড়াইহাজার উপজেলায় ছয়জন, বন্দর উপজেলায় ২০, রুপগঞ্জ উপজেলায় ১৩, সদর উপজেলায় ৫৪ এবং সোনারগাঁ উপজেলায় ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ২৩৬ জন।

XS
SM
MD
LG