অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বইমেলা শুরুর তারিখ


অমর একুশে বইমেলা প্রস্তুতি চলছে। (ছবি- আফরিন শাহনাজ)

প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে কোভিড পরিস্থিতির কারণে এই আয়োজনের সময়ে এসেছে পরিবর্তন। গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বইমেলা শুরু হয় ১৮ মার্চ থেকে। এ বছরও করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বৃদ্ধি পাওয়ায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু না করে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সরকার বাংলা একাডেমিকে নির্দেশনা দেয়। গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা ২০২২ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির বিক্রয়, বিপনন ও পুনর্মুদ্রণ বিভাগের পরিচালক ড. জালাল আহমেদ ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানান, বাংলা একাডেমির দিক থেকে বইমেলার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই বইমেলা শুরু করা যাবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের প্রায় ৯৫ ভাগ স্টলের কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। স্টল বরাদ্দের জন্য নতুন প্রকাশনী ও সংস্থা নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটাও শেষ হয়েছে। মেলা শুরুর দশদিন আগে লটারির মাধ্যমে স্টল নির্ধারণ করা হয়। এরপরেই প্রকাশকেরা স্টলের অঙ্গসজ্জার কাজ করতে পারবেন।

স্বাস্থবিধির প্রসঙ্গে ড. জালাল আহমেদ বলেন, “গত বছরের করোনা পরিস্থিতির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেলায় আগত দর্শনার্থী ও আয়োজকমন্ডলির স্বাস্থ্যগত বিষয় সুনিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণই নির্ভর করবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন পরিস্থিতির বিস্তৃতি ও সংক্রমণের মাত্রার ওপর। তবে এ ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে।”

কোভিড সংক্রমণ বেড়ে গেলে মেলা অনলাইনে করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বিপণনের ক্ষেত্র নয়। এটি এখন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মেলা উপলক্ষে লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সাংস্কৃতিসেবীদের যে মিলনমেলা তৈরি হয় অনলাইনে তা অপূর্ণ থেকে যায়। তা ছাড়া এ ব্যাপারে অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা আয়োজনকারীসহ অংশগ্রহণকারী প্রকাশকগণের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সময় প্রকাশনীর কর্ণধার ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বইমেলা করবার সকল প্রস্তুতি নেওয়া আছে অনেক আগে থেকেই। তবে মেলার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন সবাই। তারিখ ঘোষণা হলেই শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যাবে। প্রকাশক ও স্টলকর্মীদের সকলকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রকাশকেরা এ বছরেও গত বছরের মতো আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির বইমেলা সবসময় এত প্রাণবন্ত যে, বইমেলা থেকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা আমরা কখনোই করিনি। কিন্তু গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পুরো মেলাই একটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। এবারও এ ধরনের আশঙ্কা আছে কি না তা মেলা শুরুর তারিখ ঘোষিত হলে এবং মেলা কোন সময়ে হচ্ছে, সে সময়ে পরিস্থিতি কতটুকু অনুকূলে থাকে তার ওপর নির্ভর করবে।”

প্রস্তুতি চলছে অমর একুশে বইমেলার। (ছবি- আফরিন শাহনাজ)
প্রস্তুতি চলছে অমর একুশে বইমেলার। (ছবি- আফরিন শাহনাজ)

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ৩০ জানুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত “অমর একুশে বইমেলা ২০২২’’ আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলা একাডেমির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী, লেখক, প্রকাশক, বিক্রেতা, স্টলের কর্মচারীসহ মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত, ক্ষেত্রবিশেষে বুস্টার ডোজ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ভ্যাকসিন গ্রহণের বুথ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে করোনার টিকা সনদ ও কোভিড টেস্টের সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

তবে বইমেলার সব সিদ্ধান্তই আটকে আছে করোনা পরিস্থিতি কী হয় তার ওপর। এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন সবাই। মেলা কবে শুরু করতে পারবেন, কত দিন হবে এর ব্যাপ্তি তার সবটাই নির্ভর করবে দেশে সংক্রমণের মাত্রার ওপর। সংক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকলে মেলা কবে থেকে হবে, কতদিন চলবে সবটাই অনিশ্চত হয়ে পড়বে। তাই মেলা নিয়ে দ্বিধাহীনভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবু বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেল, প্রতিবারে মতো এবারও বিশাল আয়তনজুড়ে মেলার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে লেখক-প্রকাশক-পাঠকের প্রাণের বইমেলা, মুখরিত হবে মেলা প্রাঙ্গণ।

XS
SM
MD
LG