অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন সংকটে কারও পক্ষ নেবে না বাংলাদেশ


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন

ইউক্রেন সংকটে কোনো পক্ষ নেবে না বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেশন প্রধান (রাষ্ট্রদূত) চার্লস হোয়াইটলি ও যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লা ফেইভের সঙ্গে বৈঠকে তাদেরকে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে ইইউ দূত জানান, ইউক্রেন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকাকে আমরা সেটিই জানিয়েছি। পররাষ্ট্রসচিব আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে সংকটটি বহুমাত্রিক হবে। যার প্রভাব পড়বে সারা দুনিয়ায়। বৈশ্বিক ওই চ্যালেঞ্জ থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। তাই বাংলাদেশ চায় যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনার প্রশমন। সংকটের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বলেছি, এখানে সবগুলো দেশই আমাদের বন্ধু। আমরা চাই না আমাদের এমন এক অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হোক, যাতে বন্ধুদের মধ্যে আমাদের একটি রাষ্ট্রকে বেছে নিতে হয়।”

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ম্যানটিটস্কি পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দেখা করেন। সেই সাক্ষাতে তিনি তার দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তারও আগে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউক্রেন পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “আমরা চাই সব পক্ষ যেন সর্বোচ্চ সংযত থাকে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, যাতে এই টেনশন কমে আসে।”

পররাষ্ট্রসচিবের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ আশা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকটটির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ইউক্রেনে সংঘাত হলে বাংলাদেশে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে কোনো কিছুই নির্ধারিত অঞ্চলের গণ্ডির মধ্যে থাকে না। আগামীকাল এ অঞ্চলে গোলযোগ হলে এর প্রভাব পড়বে সর্বত্র।”

রাশিয়ার ওপর অবরোধ বা তাদের জ্বালানি পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “এ ক্ষেত্রে ইউরোপের বিকল্প জ্বালানির উৎস বের করতে হবে। ইউরোপ যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সংগ্রহ করে, তবে আগামী এক বা দুই বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বাড়তি চাপ পড়বে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তেপারে।”

XS
SM
MD
LG