অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে ডাচেস অফ কেমব্রিজ কেট


ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম, ডিউক অফ কেমব্রিজ এবং ব্রিটেনের ক্যাথরিন, ডাচেস অফ কেমব্রিজ বেলিজের গুড লিভিং ক্যাম্পে চিকিবুল ফরেস্ট রিজার্ভের কারাকোল মায়ান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শন করছেন। (ছবি জোহান অর্ডোনেজ / এএফপি)
ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম, ডিউক অফ কেমব্রিজ এবং ব্রিটেনের ক্যাথরিন, ডাচেস অফ কেমব্রিজ বেলিজের গুড লিভিং ক্যাম্পে চিকিবুল ফরেস্ট রিজার্ভের কারাকোল মায়ান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শন করছেন। (ছবি জোহান অর্ডোনেজ / এএফপি)

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক পরিহিত অবস্থায় জনসম্মুখে এসেছেন ডাচেস অফ কেমব্রিজ কেট। এতে করে বাংলাদেশের পোশাক বিশ্বের দরবারে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টরা।

দ্য ডাচেস অব কেমব্রিজ খ্যাত কেট শুধু ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য হিসেবেই নন, ফ্যাশন সচেতন নারী হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। তার জন্য বিশ্বের সব নামজাদা ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাক তৈরি করেন। ব্রিটেনের রাজপুত্র উইলিয়ামের স্ত্রী কেটের পরিহিত সেইসব পোশাক থাকে ফ্যাশন সচেতন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।

ডাচেস কেট এবার জনসম্মুখে এসেছেন বাংলাদেশের গার্মেন্টসের তৈরি এক প্যান্ট পরে। ‘জি স্টার’ ব্র্যান্ডের এই প্যান্টটি তৈরি করেছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এমবিএম গ্রুপ। এ বছরের মার্চে বেলিজ এর গুড লিভিং ক্যাম্পের চিকুইবুল সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত মায়া সভ্যতার ক্যারাকোল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শনের সময় কেটকে এই পোশাকে দেখা যায়।

তৈরি পোশাকের এ প্রতিষ্ঠানটি, এমবিএম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মাহমুদুর রহমান। এটি বাংলাদেশে ১৯৮৩ থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিম রহমান।

এমবিএম গ্রুপের অ্যাসিসট্যন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মেহরুজ জলিল ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, “আমেরিকা, ইউরোপের দেশসমূহ ও জাপানের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের পোশাক এমবিএম গ্রুপ তৈরি করে থাকে। জি স্টারের সাথে আমরা প্রায় ৪ বছর ধরে কাজ করছি। এমবিএম গ্রুপেরই তৈরি একটি পোশাক সম্প্রতি কেট মিডলটন পরেছেন। পোশাকটি জি স্টারের জন্য আমরা তৈরি করেছিলাম। আমরা যে বিশ্বমানের পোশাক উৎপাদন করি, এ বিষয়ক বার্তাটি এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তা আরও সবার কাছে এ বিষয়ক বার্তাটি যাবে বলেই বিশ্বাস করি।”

এমবিএম গ্রুপ নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য পোশাক উৎপাদন করে বলেও জানান তিনি।

বার্ষিক রপ্তানি পরিমাণ জানতে চাইলে এমবিএম গ্রুপের অ্যাসিসট্যন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, “গত বছর ১২০ মিলিযন মার্কিন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের সর্বোচ্চ ফ্যাশন সোসাইটিতে পৌঁছে যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমাদের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি আমাদের গর্ব, আর্থসামাজিক চিত্রবদলের জাদুকাঠি। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে এই তৈরি পোশাকশিল্প। দারিদ্র্য দূরীকরণ ছাড়াও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তৈরি পোশাকের প্রথম সারির ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য আমাদের দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের পোশাক পরেছেন এটি বাংলাদেশের পোশাককে বিদেশে পজিটিভ একটি বার্তা দেবে বলে মনে করি।”

তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সংগঠন বিজিএমইএ’র এই শীর্ষ নেতা আরও জানান, গার্মেন্টস শিল্পে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। ১৬০টি দেশে পোশাক রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ শক্ত ভিত গড়তে পেরেছে। দেশের অর্থনীতির চেহারাই বদলে দিয়েছে তৈরি পোশাক খাত। পাঁচ দশকের ব্যবধানে রপ্তানি আয় ৯৬ গুণ বেড়েছে।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইনটি বাংলাদেশের গর্ব। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যে সকল পোশাক রপ্তানি হয় তাতে এই স্লোগানটি লেখা থাকে। আগামী বছর থেকে এই ইংরেজি স্লোগানের পাশাাপাশি বাংলা ভাষাতে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ কথাটিও লেখা থাকবে বলে ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট।

ফারুক হাসান বলেন, “বাংলা ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি। বিশ্ববাসী বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দেওয়ার কথা এখন জানতে পারছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তাই আমরা যাচ্ছি, এই পোশাকের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক। তাই ইংরেজিতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ কথাটির পাশাপাশি বাংলায় ‘বাংলাদেশের তৈরি’ এই কথাটিও যুক্ত হবে। এই বছর আমরা শুরু করবো। তবে আগামী (২০২৩)বছরের জানুয়ারি থেকে নিয়ম বা আইন যা-ই বলি না কেন তা করা হবে। যাতে সবাই এটা মেনে চলে।”

XS
SM
MD
LG