অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল


অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ খেলাপির মোট ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী তালিকায় শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির নাম, মোট ঋণের পরিমাণ এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন।

তিনি সংসদকে আরও জানান, বাংলাদেশে মোট খেলাপির সংখ্যা ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ জন।

তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির মধ্যে সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৭৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৬৪৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ঋণ ১ হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, এর সমস্তটাই খেলাপি ঋণ।

রাইজিং স্টিল কোম্পানি লিমিটেডের ঋণ ১ হাজার ১৪২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণ ৯৯০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ঋণ ৯৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, এর সমস্ত পরিমাণই খেলাপি ঋণ।

রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেডের ঋণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ একই। তাদের খেলাপি ঋণ ৮৭৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

ক্রিসেন্ট লেদারস প্রোডাক্টস লিমিটেডের ঋণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বিআর স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৭২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৭৭০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

সামনাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৩০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৫১ দশমিক ৭ কোটি টাকা।

মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

এশিয়ান এডুকেশন লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৬৫৩ কোটি টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এসএম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

অ্যাপোলো স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৮৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এহসান স্টিল রি-রোলিং লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৬২৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

সিদ্দিকী ট্রেডার্সের ঋণের পরিমাণ ৬৭০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাজমা আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, “কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের কোনো পরিকল্পনা নেই”।

এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা টাকা দিয়ে কৃষকদের ঋণ দেয়। আমানতকারীদের সুদ দিতে হয় বলে কৃষকদের দেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ করা ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব নয়”।

সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, “চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পাওয়া যায়নি। ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে”।

তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। এই ঋণটি ৩০ বছরে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পরিশোধযোগ্য”।

চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, “চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে জাপান সরকার ৯২১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ইউএস ডলার ছাড় দিয়েছে”।

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কর রাজস্ব কম ছিল উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, “কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মুদ্রানীতি এবং কঠোরতা নীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব সংগ্রহ ব্যর্থ হয়েছে”।

XS
SM
MD
LG