শ্রীলংকায় হাসিনার পতনকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশার পতনের মত করে দেখা হচ্ছে
২০২২ সালে আন্দোলনের মুখে সে দেশের নেতার পতন ঘটেছিল যেভাবে বাংলাদেশে হাসিনার পতনকে শ্রীলংকায় সেইভাবে দেখা হচ্ছে।
শ্রীলংকা মঙ্গলবার বলেছে, তারা আশা করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরবে।
কলম্বোতে সরকারের মুখপাত্র বান্ডুলা গুনাওয়ারদানা সাংবাদিকদের বলেন, "আমরাও আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একইরকম বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম"।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে উভয় দেশের জন্য আগামীতে শান্তি এবং উন্নতি কামনা করেন।
২০২২ সালের জুলাই মাসে শ্রীলংকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশা দেশত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজাপাকশার সরকারি বাসভবনে লুটপাটের ছবির পাশে সোমবার হাসিনার বাসভবনে হামলার ছবি পোস্ট করেছেন অনেকে।
(এই রিপোর্টের তথ্য এএফপি থেকে নেয়া হয়েছে।)
জরুরি নয় এমন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সরকার মঙ্গলবার বলেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর সতর্কতা হিসাবে তারা বাংলাদেশ থেকে খুব জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অতি জরুরি নয় এমন সব কূটনীতিক এবং কর্মীদের পরিবারসহ সোমবার থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সীমিত আকারে চালু আছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অশান্ত পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসের আশংকায় বাংলাদেশে না যেতে সতর্ক করেছিল এবং তা এখনও সেই সতর্কতা বলবত আছে।
বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে: চীন
চীন আশা প্রকাশ করেছে, "বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।"
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বেইজিং-এ বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং কৌশলগত সহযোগী হিসাবে চীন আন্তরিকভাবে আশা করে বাংলাদেশে অচিরেই সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
(এই প্রতিবেদনের তথ্য এএফপি থেকে নেয়া হয়েছে।)
বিয়ানীবাজার থানাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন, নিহত ৩
শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার (৫ আগস্ট) সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় দুর্বৃত্তরা হামলা চালালে পুলিশের গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে।
সোমবার বিকালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটলেও উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করায় মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) থানা থেকে লাশ নিয়ে যান নিহতদের স্বজনরা।
এর আগে, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে রাস্তায় নেমে মিষ্টি বিতরণ করে মিছিল করেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের উচ্ছ্বসিত জনতা।
সেদিন বিকাল ৩টার দিকে পৌর শহরের রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন বয়সী হাজারও মানুষ। এসময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বিয়ানীবাজার থানা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় গাড়ি ও স্থাপনা পুড়ে গেছে। হামলার আগ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা আত্মসমর্পণের করলেও তাদের ওপর চড়াও হয় দূর্বৃত্তরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ৩ জন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশংকাজনক। তবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেনাবাহিনী কাজ করছে।
(এই রিপোর্টের তথ্য ইউএনবি থেকে নেয়া হয়েছে।)