অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকায় এক জরিপে অধিকাংশ তরুণ বলেছেন তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়া ঠিক হবে না

আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে সামরিক ইউনিটের সাথে কথা বলেছেন তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ফাইল ফটো- রয়টার্স
আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে সামরিক ইউনিটের সাথে কথা বলেছেন তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ফাইল ফটো- রয়টার্স

রাজধানী ঢাকার তরুণরা মনে করেন, আফগানিস্তানে তালিবান সরকার আসায় বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামপন্থিদের সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি পেতে পারে। দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি চাপের মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশের স্বীকৃতি দেয়া উচিত নয় বলেও তারা মত দেয়।

একটি বেসরকারি সংস্থা স্টাডি গ্রুপ অন রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স'র ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা এক জরিপে এটি উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগরীর তরুণদের ওপর 'আফগান তালিবানের সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিক্রিয়া ও মতামত' শীর্ষক এই গবেষণায় অংশ নেন ২৩২ জন শিক্ষার্থী। পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই জরিপে অংশ নেন।

গবেষণা জরিপে শিক্ষার্থীদের ৭৭.৬ শতাংশ ছেলে এবং ২২.৪ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেন। আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখলের পরে তালিবান কি ধরনের সংগঠন এমন প্রশ্নে উত্তরদাতাদের মধ্যে ১৯ শতাংশ বলেছেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগঠন। ১০.৬ শতাংশ বলেছেন সন্ত্রাসী সংগঠন। ৩১.৭ শতাংশের মত হচ্ছে, এটা ইসলামী সংগঠন। কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক দল বলেছেন ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপ সংস্থাটি প্রশ্ন করেছিল-তালিবানের ক্ষমতা দখলে তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন? তার জবাবে ২১.৬ শতাংশ বলেছেন খুব সন্তুষ্ট। আর মোটামুটি সন্তুষ্ট ২৮.৪ শতাংশ। আর অসন্তুষ্ট বলেছেন ১৫.৫ ভাগ উত্তরদাতা। কোনো মতামত দেননি ২৩.৩ শতাংশ। যারা সন্তুষ্ট তারা এর কারণও বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন, এতে করে ইসলামের বিজয় হয়েছে। ২১.৭ শতাংশ রয়েছেন এর মধ্যে। ৬.৩ শতাংশ মনে করেন, এতে করে কাশ্মীরে মুসলমানদের মুক্তির সম্ভাবনা বেড়েছে।

আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে বলেছেন ১৯.১ শতাংশ। বাংলাদেশসহ অন্যান্য অঞ্চলে জঙ্গিবাদ বিস্তৃত হবে ১৮.১ শতাংশ। আফগান নারীরা শোষিত ও নির্যাতিত হবেন এমন মত দিয়েছেন ২৮.৭ শতাংশ। পাকিস্তানের শক্তি বাড়বে ৬.৪ শতাংশ। এই অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার কর্তৃত্ব বাড়বে ৭.৪ শতাংশ। ভারত চাপে থাকবে এমনটা বলেছেন ৪.৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের বিষয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মত কি, এই প্রশ্নের জবাবে ২৯.৯ শতাংশ বলেছেন সমর্থন করি যদি তারা নারী অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হয়। যদি তারা আর কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ না করে। ২৯.৩ শতাংশ বলেছেন, তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করলে সমর্থন করা যায়।

বাংলাদেশে এর কী প্রভাব পড়তে পারে এরকম প্রশ্নে রাজধানী ঢাকার তরুণদের ২৩.২ শতাংশ মনে করেন প্রভাব পড়বে না। স্বীকৃতির প্রশ্নে ৫১.৪ শতাংশ বলেছেন, দেয়া ঠিক হবে না। আর হ্যাঁ বলেছেন ৪৮.৬ শতাংশ। কওমি এবং আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা একবাক্যে বলেছেন এটা ইসলামের বিজয়। ইসলামী শরীয়ত কায়েম ও খেলাফতের শুরু। ইসলামী বিধি-বিধান জারি করা, দুর্নীতিমুক্ত শাসনসহ বাংলাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর শক্তি বাড়বে।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে স্টাডি গ্রুপ অন রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স-এর কাছে মনে হয়েছে, ধর্মকে কোনোভাবে রাজনীতি ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যেকোনো দেশে এবং স্থানে যথাযথ সঠিক অংশগ্রহণমূলক ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভাব ধর্মভিত্তিক কট্টরপন্থাকে উৎসাহিত করে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG