অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বিপরীত ফল হবে: আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের মহাপরিচালক


ওয়াশিংটনে শরণার্থী বিষয়ে একটি সংস্থা বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্তু সংকট নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায়, সোমবার রাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেছিল। জাতিসংঘ শরণার্থী হাইকমিশনারের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বক্তারা রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বক্তব্য রাখেন। আসুন বিস্তারিত শোনা যাক রোকেয়া হায়দারের কাছে।

Global Center for Refugee Education and Sciences বা GCRES, Veterans for American Ideals ও One Journey এই সংস্থাগুলো বর্তমানে বিশ্বের সবচাইতে বিরাট উদ্বাস্তু সমস্যা মিয়ানমার থেকে যে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সেই সংকট নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করে। আলোচনায় বক্তব্য রাখেন আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের মহাপরিচালক ডঃ ওয়াকার উদ্দিন, জাতিসংঘ শরণার্থী হাইকমিশনারের সিনিয়ার উপদেষ্টা জেনা মেসন, International Campaign for the Rohingyas এর নির্বাহী পরিচালক সাইমন বিলেনেসস, Refugees International Senior Advocate ড্যানিয়েল সালিভান এবং The Nexus Fundর Country Director ম্যাগি লেহি।

আলোচনা শুরুর আগে বাংলা বিভাগের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারের ডঃ ওয়াকার উদ্দিন- বর্তমানে যখন কিনা বাংলাদেশ সরকার যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, ভাসানচরে কিছু সংখ্যক শরণার্থীদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছেন, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমাজ কি ব্যবস্থা নিতে পারে সে সম্পর্কে বলেন – ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যা করছেন সেটাই অব্যাহত রাখা উচিত। তাদের একসঙ্গে মিলে, অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে এবং তাদের কি করণীয় সেটা ১ ২ ৩ এইভাবে নির্ধারণ করা উচিত। এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিষয়টি হচ্ছে – রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরে যেতে হবে। তাদের জন্য একটি পথ নির্দেশিকা প্রস্তুত করতে হবে – তাদের নিরাপত্তাবিধান করতে হবে। তাদের নাগরিকত্ব ফিরিযে দিতে হবে, এবং মানবিধাকরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, দ্বীপটিতে স্থানান্তরের বিষয়ে আমরা মনে করি তার বিপরীত ফল হবে। আমি মনে করি দ্বীপটিতে পাঠানোর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের গ্রামে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করা উচিত। শরণার্থীদের এক শিবির থেকে আর এক শিবিরে নিয়ে যাওয়া সঠিক হবে না বলেই আমি মনে করি।’

রোহিঙ্গারা এখনও কিন্তু অল্প সংখ্যায় হলেও, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে, বন-জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন । ওদিকে চীন সম্প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে ডঃ ওয়াকার উদ্দিন বললেন, ‘হ্যাঁ, চীনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে চীন বলছে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নয়, দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করতে হবে। ডঃ ওয়াকার উদ্দিন মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে এর সমাধান করাটাই মুল কথা। এটা শুধুমাত্র কোন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়; রোহিঙ্গা সমস্যা আঞ্চলিকভাবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মানবপাচার মালয়েশিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এমনকি ইওরোপ অস্ট্রেলিয়া পর্য্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা চীনের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংকট এখন বিশ্বের সবচাইতে বিরাট মানবিক সংকট। এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সমাজ কি করতে পারে বা কি করা উচিত তাদের। এ প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ শরণার্থী হাইকমশনারের সিনিয়ার উপদেষ্টা জেনা মেসন বললেন– ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা হচ্ছে বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সবচাইতে বিরাট উদ্বাস্তু সমস্যা। রোহিঙ্গা সংকট অবশ্য নতুন কিছু নয়, সেই ১৯৭০ এর দশক থেকে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তাদেরকে জোর করে বাংলাদেশে চলতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অই অঞ্চলের অন্য দেশ– মালয়েশিয়া, থাইল্যাণ্ড, ইন্দোনেশিয়া, এসব দেশেও চলে যেতে হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে সবচাইতে বিরাট সংখ্যক রোহিঙ্গা সেনাবাহিনীর অত্যাচার নিপীড়নের কারণে ৭ লক্ষেরও বেশী রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। এবং তারা সেখানে আগে থেকে যে কয়েক লক্ষ উদ্বাস্তু ছিল, তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এখন প্রায় ৯ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে রয়েছে। এ হচ্ছে অবশ্যই এক বিরাট শরণার্থী সমস্যা। সেইসঙ্গে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যেও এখন দেড় লক্ষ রোহিঙ্গা আছে যারা তাদের ঘরবাড়ী ছেড়ে অন্য অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমার সংস্থা UNHCR অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে বাংলাশে সরকার ও অন্য শরীকদের সঙ্গে সহযোগিতায় মানবিক সাহায্য সহযোগিতা সরবরাহ করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উদ্বাস্তুরা তাদের নিজের দেশে ফিরে যাবে তবে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এবং তারা স্বেচ্ছায় তাদের ঘরে ফিরে যেতে রাজী হবে। তাদের দেশে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেটাই আমাদের কাম্য।

আলোচনা থেকে এটাই উপলব্ধি করা যায় যে, সবাই চান রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিকত্বের অধিকার ও নিশ্চয়তা নিয়ে, নির্ভয়ে মর্যাদার সাথে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে গিয়ে বসবাস করুন।

XS
SM
MD
LG