অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অপকর্ম বন্ধে প্রয়োজন হলে মিয়ানমার সীমান্তে গুলি চালানো হবেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন   


পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

মিয়ানমার থেকে মাদক ও অস্ত্রপাচার বন্ধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনে গুলি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মঙ্গলবার নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী জানান, এতোদিন মিয়ানমার সীমান্তে গুলি না চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, ড্রাগ ট্রাফিকিং, হিউম্যান ট্রাফিকিং বা অস্ত্রপাচার রোধে এখন থেকে গুলি চালানো হবে।

সিলেটের দুটি হাসপাতালের রোগীদের সেবায় ভারত সরকারের দেয়া দুটি আইসিইউ এম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীও অতিথি ছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. মোমেন ভারতবাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণহানির বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

ড. মোমেন বলেন, আমরা তো খুব দানবীর দেশ। আমাদের বর্ডারে কেউ আসলে আমরা মারি না। মাঝে মধ্যে আমাদের প্রতিবেশির একজন দুইজন মারা যায়, আর এটি নিয়ে মিডিয়া তো আমাদের জীবন শেষ করে দেয়। তবে-ভারত সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার নীতিগত সিদ্বান্ত নিয়েছে যে, আমাদের সীমান্তে একটি লোকও মরবে না।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে সরকার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলোর এক্ষেত্রে কাঙ্খিত সহযোগিতা মিলছে না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস আছে। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লক্ষ রোহিঙ্গা এসেছিলো, আলোচনার মাধ্যমে পরে তারা নিয়ে গেছে। ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আসে। আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ২ লক্ষ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে নিয়ে যায়। আর বাকি কিছু ইউএনএইচসিআরের আশ্রয়ে থাকে। এবারের আসার সংখ্যা অনেক বেশি। ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এদের প্রত্যাবাসনে জোর দিচ্ছি। কিন্তু বিভিন্ন এজেন্সি তাদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের চিন্তা করে। গত চার বছর ধরে রাখাইনে কোনো ধরনের সংঘাত নেই। কোনো মারামারি নেই। কিন্তু ওরা (বিভিন্ন এজেন্সি) ওদেরকে বলে নাওখানে যাও। ওরা বলে, এইখানে তাদেরকে কেমনকরে ভালো রাখবেন, তাদের হিউম্যান রাইটস নিয়ে- তারা (বিভিন্ন এজেন্সি) একেকটা অবান্তর দাবি করে বলেছে- ওদের জমি কিনে দিতে, তাদেরকে ভালো স্কুলিং করতে হবে। এগুলো গ্রহণযোগ্য না।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিলো- ‘উই মাস্ট গো ব্যাক টু আওয়ার হোম, টু আওয়ার কান্ট্রি অব অরিজিন’। তারপরে তাকে মেরেই ফেললো। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরাও চাই- তদন্ত করে সঠিক তথ্য নিতে। খুঁজে বের করতে চাই-কারা মারলো? যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি হবে, কেউ ছাড় পাবে না।

XS
SM
MD
LG