অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

র‍্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, আইনমন্ত্রী বলছেন এটা "কল্পনাপ্রসূত"


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। (ছবি- মানবজমিন)

র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন - এটা কল্পনাপ্রসূত, শিষ্টাচারবহির্ভূত। একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এটাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন- "যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তাদের একটা লক্ষ্য থাকে। সেটা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। যাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া। দুর্ভাগ্য হচ্ছে- কোনোরকম আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এমন এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে"।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এটাকে "কল্পনাপ্রসূত" বলে মন্তব্য করেন। বলেন, "বাংলাদেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি"।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন- "এটা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য"। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, উন্নয়ন সহযোগী । আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের অনুভূতি অনুধাবন করতে সক্ষম হবে"।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, "র‍্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। র‍্যাব কাজ করে আইন ও বিধির আলোকে। আমাদের স্বাধীন মিডিয়া আছে, সুশীল সমাজ আছে, সবদিক যাচাই-বাছাই করে কাজ করা হয়। রোববার দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটায় এক অনুষ্ঠানে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন- আমরা সংবিধান, আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করে থাকি। র‍্যাব কোনো কাজ করলে আইন অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে থাকেন। পুলিশ তদন্ত করে, আমরা তদন্তও করি না"।

ওদিকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর সরকার কি করবে? এক লাইনে শুধু বলেছেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও যোগাযোগ বাড়াবো" ।

মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমান আইজিপি বেনজীর আহমেদও রয়েছেন। এরই মধ্যে তার আমেরিকান ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

XS
SM
MD
LG