অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রস্তুতি সম্পন্ন, রবিবার খুলছে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 


বাংলাদেশের একটি স্কুলের ক্লাসরুম পরিস্কার করা হচ্ছে।

প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। রবিবার থেকে খুলছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এক সঙ্গে নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে পঞ্চম শ্রেণী, এসএসসি ও এইচএসসির ক্লাস শুরু হবে। অন্যদের ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৫৪৩ দিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ হচ্ছে দ্বিতীয় দেশ যেখানে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। হতাশায় বেড়ে গিয়েছিল আত্মহত্যার প্রবণতা। আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে বলা হয়েছে, ২০২০ সনের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সনের জুন পর্যন্ত দেশে ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও তা কার্যকর করা যায়নি। যখনই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল। একে একে ২৩ দফা বাড়ানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শুক্রবার আবারো বলেছেন, সংক্রমণ বাড়লে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরামর্শ দেবেন।এই মুহূর্তে দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৮ জন।শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জন। যা গত ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৬৫ ভাগে নেমে এসেছে।করোনার সংক্রমণ কমলেও ডেঙ্গু বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ২৫৫ জন। ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতার মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঝুঁকিপূর্ণ এমনটাও বলছেন অনেকেই।

বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রতিদিন শেণীকক্ষের অবস্থা কি ছিল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে কিনা তা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠাতে বলা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ কমেছে, কিন্তু নির্মূল হয়ে যায়নি। তাই কোথাও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত জানান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে। শিক্ষকদের কাছেও ৮টি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাদের মনোসামাজিক সহায়তা দেয়া, হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচার পালন করার কথাও বলা হয়েছে।এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস নিতে হবে। সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার মধ্যে শ্রেণীর কার্যক্রম শেষ করতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।

ওদিকে করোনা মহামারি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অনলাইনে পাঠদানের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার তার নোটিশে বলেছেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতেই হয়, তাহলে সপ্তাহে একদিন সামাজিক দূরত্ব মেনে সশরীরে পাঠদানের সুযোগ দিতে হবে। নোটিশে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

XS
SM
MD
LG