অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের প্রতি তালিবানের হুঁশিয়ারি: সামরিক শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন


আফগানিস্তানের কাবুলের দক্ষিণ -পশ্চিমে ফারাহ প্রদেশের রাজধানী ফারাহ শহরের ভিতরে তালিবান। যোদ্ধারা টহল দিচ্ছে। ১১ আগস্ট ২০২১।

তালিবান আফগানিস্তানে ভারতকে সামরিক ভূমিকা পালনে বিরত থাকতে বলেছে। তালিবান মুখপাত্র মুহাম্মদ সুহেইল শাহিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "ভারত যদি আফগানিস্তানে সামরিক শক্তি নিয়ে আসে এবং এখানে ঘাঁটি গেড়ে থাকে, তাদের জন্য সেটা ভালো হবে না।"

তালিবান এখন রাজধানী কাবুলের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে।এই অবস্থায় প্রতিটি দেশ তাদের নাগরিকদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার তোড়জোড় করছে। ভারত কিছু কিছু জায়গা থেকে ইতিমধ্যে তার নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে বটে, কিন্তু এখনও বেশ কিছু ভারতীয় কাবুল সহ আফগানিস্তানের কয়েকটি জায়গায় রয়ে গিয়েছেন। তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় অপ্রতিহত গতিতে তালিবান গোটা দেশ দখলের জন্য এগোচ্ছে। গতকাল আফগানিস্তানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দাহারের পতন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তালিবানের একটি বিবৃতিতে বিদেশিদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানের মাটি থেকে কোনও দেশের সম্পত্তি ও দূতাবাসের ওপরে এবং বিদেশিদের ওপরে আক্রমণ চালানো হবে না।

এএনআই সংবাদ সংস্থা এই বিষয়টি তুলে তালিবান মুখপাত্র শাহিনের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে জানতে চেয়েছিল, ভারতের দূতাবাসের ওপর কোনও আক্রমণ চালানো হবে কিনা। উত্তরে শাহিন বলেন, "আমাদের সাধারণ নীতি হলো, আফগানিস্তানের মাটি থেকে কোনও দেশের সম্পত্তি বা দূতাবাসের ওপরে আক্রমণ চালানো হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলো অবশ্যই তার মধ্যে পড়ছে।"

শাহিন বলেন, "ভারত আমাদের দেশে নানারকম গঠনমূলক কাজ করেছে, পরিকাঠামোর উন্নতি করেছে। যেমন সালমা বাঁধ, স্কুল, হাসপাতাল, সড়ক, ইত্যাদি ভারতের সহায়তায় গড়ে উঠেছে। এইগুলো প্রশংসনীয় কাজ।" একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "তবে ভারতের সামরিক শক্তির প্রদর্শন আমরা মেনে নেব না। যদি তারা ওই কাজ করে, তার পরিণাম ভালো হবে না। অন্যান্য দেশ, যারা এর আগে এমন করেছে, তাদের দশা মনে রাখলেই হবে। এখন ভারত কী করবে না করবে সেটা তাদের ওপরে নির্ভর করছে।"

হেরাত প্রদেশে ভারত বিপুল অর্থব্যয়ে 'সালমা বাঁধ' তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেটি উদ্বোধন করেছেন। হেরাত দখলের পর তালিবান ওই বাঁধের নিয়ন্ত্রণ ভার নিতে চলেছে।

XS
SM
MD
LG